জেলা-উপজেলায় ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ চালু করছে সরকার
- আপডেট সময়ঃ ০২:৪৯:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৮ বার পড়া হয়েছে
চাকরিপ্রার্থী ও নিয়োগদাতার মধ্যে দূরত্ব কমাতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে চাকরির সুযোগ ও দক্ষ কর্মীর তথ্য একই ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে নির্বাচিত কয়েকটি জেলা ও উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে এ কার্যক্রম শুরু হবে। পাইলট কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনার পর পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য জেলা ও উপজেলায় এটি সম্প্রসারণ করা হবে।
সরকারের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ চালুর পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় গত এপ্রিল মাসে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়। তবে উদ্যোগটির বাস্তবায়ন কাঠামো নিয়ে আলোচনা এখনও চলছে।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব কামরুন নাহার বলেন, কার্যক্রম চলমান রয়েছে। শুরুতে নির্দিষ্ট কয়েকটি জেলা বা উপজেলায় পাইলট কার্যক্রম চালু করা হতে পারে। পরবর্তী সভায় প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিনের উপস্থিতিতে পাইলট কার্যক্রমের বিষয়টি চূড়ান্ত হতে পারে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জে চাকরিপ্রার্থীরা তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, দক্ষতা ও কাজের অভিজ্ঞতার তথ্য নিবন্ধন করতে পারবেন। অন্যদিকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের শূন্য পদ ও প্রয়োজনীয় যোগ্যতার তথ্য দিতে পারবে।
এরপর চাকরিপ্রার্থীর দক্ষতা ও যোগ্যতার সঙ্গে নিয়োগদাতার চাহিদা মিলিয়ে উপযুক্ত প্রার্থী খুঁজে বের করার ব্যবস্থা থাকবে। স্থানীয় কোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মীর প্রয়োজন হলে ওই এলাকার নিবন্ধিত চাকরিপ্রার্থীদের মধ্য থেকেও উপযুক্ত ব্যক্তিকে খোঁজার সুযোগ তৈরি হবে।
বাজেট বক্তৃতায় বলা হয়েছে, কোনো চাকরিপ্রার্থীর প্রয়োজনীয় দক্ষতার ঘাটতি থাকলে তাকে উপযুক্ত প্রশিক্ষণকেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থাও করা হবে। তবে কোন শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রার্থীরা প্রথম ধাপে নিবন্ধনের সুযোগ পাবেন, প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে শূন্য পদের তথ্য দেবে এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ে কোন দপ্তর এ কার্যক্রম সমন্বয় করবে—এসব বিষয়ে এখনও বিস্তারিত কাঠামো চূড়ান্ত হয়নি।
এ উদ্যোগের সঙ্গে শ্রমবাজারের চাহিদার তথ্য সংগ্রহের বিষয়টিও যুক্ত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) যৌথভাবে ‘লেবার ডিমান্ড সার্ভিস সার্ভে’ নিয়ে কাজ করছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন খাতে কী ধরনের কর্মীর চাহিদা রয়েছে, কী দক্ষতা প্রয়োজন এবং ভবিষ্যতে কোন ধরনের দক্ষতার চাহিদা বাড়তে পারে, তা নির্ধারণের চেষ্টা করা হচ্ছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, চাকরিপ্রার্থীর দক্ষতা ও স্থানীয় শ্রমবাজারের চাহিদার মধ্যে যে অমিল রয়েছে, এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে তা কমানোর চেষ্টা করা হবে।










