লালমনিরহাটকে ভুট্টার রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা হবে : ত্রাণমন্ত্রী দুলু
- আপডেট সময়ঃ ১১:২২:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৭ বার পড়া হয়েছে
লালমনিরহাটকে পূর্ণাঙ্গ কৃষি জেলা ও ভুট্টার রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার কথা জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে লালমনিরহাট শহরের মিশনমোড় সংলগ্ন এলাকায় ঐতিহাসিক ‘ভুট্টা চত্বরের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী বলেন, একই সঙ্গে জেলার ভুট্টাকে ব্র্যান্ডিং করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ‘ভুট্টায় ভরা সবার ঘর, লালমনিরহাট স্বনির্ভর’—এ স্লোগান এখন থেকে জেলার সবাইকে ধারণ করতে হবে। লালমনিরহাটকে পূর্ণাঙ্গ কৃষি জেলা হিসেবে গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার লক্ষ্যেই জেলা শহরে জিআই ব্র্যান্ডিং পণ্য ‘ভুট্টা চত্বর’ নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, গত এক দশকে এ জেলায় ভুট্টার বিপ্লব ঘটেছে। তিস্তা ও ধরলার চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন উর্বর জমিতে দিন দিন ভুট্টা চাষ জনপ্রিয় হচ্ছে। কৃষকরা যাতে উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পান, সে জন্য আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণন ব্যবস্থার বহুমুখী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, ভুট্টা চত্বরটি নির্মাণের পর দর্শনার্থী ও পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। নির্মাণকাজ শেষ হলে এটি সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, লালমনিরহাটের ভুট্টার গুণগত মান বিবেচনায় নিয়ে এটিকে জিআই পণ্য হিসেবে ব্র্যান্ডিং করা হলে এর বাজারমূল্য ও আন্তর্জাতিক পরিচিতি আরও বাড়বে। ভুট্টা চত্বর নির্মাণের মধ্য দিয়ে জেলার কৃষির ঐতিহ্য আরও সমৃদ্ধ হবে।
জেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, লালমনিরহাটের আবহাওয়া এবং দোআঁশ ও পলিমাটি ভুট্টা চাষের জন্য উপযোগী। বিশেষ করে তিস্তা ও ধরলার চরাঞ্চলে ব্যাপকভাবে ভুট্টা উৎপাদন হচ্ছে। জেলার হাজার হাজার প্রান্তিক ও বর্গাচাষি ভুট্টা চাষের মাধ্যমে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন। পুরুষের পাশাপাশি গ্রামীণ নারীরাও ভুট্টা মাড়াই, শুকানো ও সংরক্ষণের কাজে যুক্ত রয়েছেন।
দেশের পোল্ট্রি, মৎস্য ও ডেইরি ফিড শিল্পে প্রধান কাঁচামাল হিসেবে লালমনিরহাটের ভুট্টার চাহিদা রয়েছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে জেলার উৎপাদিত ভুট্টা দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে সরবরাহ করা হয়।
ভুট্টা চত্বরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নে প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য দুটি গ্রামীণ সড়কের উন্নয়নকাজের উদ্বোধন করেন মন্ত্রী। এসব সড়কের নির্মাণকাজ শেষ হলে মোগলহাট এলাকার যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতির পাশাপাশি স্থানীয় কৃষিপণ্য সহজে হাট-বাজারে পরিবহন করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মুহ. রাশেদুল হক প্রধান, জেলা পরিষদ প্রশাসক একেএম মমিনুল হক, পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা ও কৃষকরা।




















