বিনিয়োগ আকর্ষণে ২০ উদ্যোগের ৭টি বাস্তবায়ন, পাইপলাইনে ১৩০ কোটি ডলার
- আপডেট সময়ঃ ০৩:১০:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৪ বার পড়া হয়েছে
দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে চলতি বছরের ১৬ মার্চ ঘোষিত ইনভেস্ট বাংলাদেশের ২০টি উদ্যোগের মধ্যে ৭টি ইতিমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ ও খাত থেকে সম্ভাব্য ১৩০ কোটি মার্কিন ডলারের বিনিয়োগের একটি পাইপলাইন তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে ৪০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে।
ইনভেস্ট বাংলাদেশের সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) নাহিয়ান রহমান রোচি বাসসকে বলেন, ২০টি উদ্যোগকে তিনটি বড় স্তম্ভের অধীনে নেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো—শক্তিশালী অবকাঠামো, বিনিয়োগে সহায়তা এবং বিনিয়োগ উন্নয়ন।
বাস্তবায়িত উদ্যোগগুলোর অন্যতম ৫৫ কোটি ডলারের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল। এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয়েছে এবং এপিএম টার্মিনালস ২০৩০ সালের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়েছে। টার্মিনালটি চালু হলে ৭০০টির বেশি প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান হবে এবং চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা প্রায় ৪৪ শতাংশ বাড়বে।
চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাজও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে এগিয়েছে। চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে এবং ২০২৮ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। শিল্পাঞ্চলটিতে এক লাখের বেশি প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রকল্পটির বিনিয়োগ পাইপলাইনের পরিমাণ প্রায় ১৩০ কোটি ডলার, যার মধ্যে প্রায় ৫০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ ইতিমধ্যে সক্রিয় রয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরে ২৪ ঘণ্টা কার্যক্রম চালুর উদ্যোগও বাস্তবায়িত হয়েছে। এখন কাস্টমস ছাড়পত্র ও ব্যাংকিং সেবা সার্বক্ষণিকভাবে পাওয়া যাচ্ছে। এতে পণ্য খালাসের সময় কমার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের বিলম্বজনিত সমস্যা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিনিয়োগকারীদের সেবা সহজ করতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব কর্তৃপক্ষের বিনিয়োগ-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম একীভূত করে ইনভেস্ট বাংলাদেশের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নতুন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিনিয়োগ সহায়তা, জমি, অর্থনৈতিক অঞ্চল ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের সুযোগ সম্পর্কে সমন্বিত সেবা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
এ ছাড়া বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি সম্পন্ন হওয়াকে বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আওতায় বাংলাদেশের ৯৭ শতাংশ পণ্য অগ্রাধিকারমূলক বাজারসুবিধা পাবে।
বিনিয়োগকারীদের সমস্যা দ্রুত সমাধানে প্রধানমন্ত্রী ও ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তাদের নিয়মিত সংলাপের ব্যবস্থাও চালু হয়েছে। প্রথম দুই দফা সংলাপে ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা ২৮টি সমস্যা তুলে ধরেন। এর মধ্যে ২১টি বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, অর্থাৎ প্রায় ৭৫ শতাংশ সমস্যার ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে।
বিদেশি বিনিয়োগ আনতে এফডিআই প্রণোদনা কর্মসূচিও অনুমোদন করা হয়েছে। এর আওতায় বিদেশি বিনিয়োগ দেশে আনতে সক্ষম যোগ্য ব্যক্তিকে আনা বিদেশি বিনিয়োগের ইক্যুইটির ১ দশমিক ২৫ শতাংশ সমপরিমাণ প্রণোদনা দেওয়া হবে। কর্মসূচিটির নির্দেশিকা অনুমোদিত হয়েছে এবং একটি পৃথক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরির কাজ চলছে। আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে এটি চালুর লক্ষ্য রয়েছে।
ইনভেস্ট বাংলাদেশের বাকি ১৩ উদ্যোগও বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল, মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল, প্রথম সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প, তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল, বাংলাবিজ বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্মের সম্প্রসারণ, চীনের গুয়াংজুতে ইনভেস্ট বাংলাদেশের কার্যালয় স্থাপন এবং দেশব্যাপী শিল্প খাতের ম্যাপিং।
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের আওতায় পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক বন্দর ও লজিস্টিকস অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ড যুক্ত থাকবে।
এদিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ চালুর লক্ষ্য রয়েছে। এটি চালু হলে বিমানবন্দরের বার্ষিক কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতা প্রায় ২ লাখ টন থেকে বেড়ে ৫ লাখ টনে দাঁড়াবে। পাশাপাশি ছয় হাজারের বেশি প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে।
নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও অগ্রগতি হয়েছে। ইনভেস্ট বাংলাদেশ ১৩০ কোটি ডলারের বৈচিত্র্যময় বিনিয়োগ পাইপলাইন তৈরি করেছে। এর মধ্যে ৪০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত বা বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে।
সম্ভাব্য বিনিয়োগের মধ্যে চীন থেকে ৬০ কোটি, মধ্যপ্রাচ্য থেকে ৩০ কোটি, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২০ কোটি এবং দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ১০ কোটি ডলারের বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।
খাতভিত্তিক হিসাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও তথ্যপ্রযুক্তিতে প্রায় ৩০ কোটি ডলার করে এবং স্বাস্থ্যসেবা ও বস্ত্র খাতে ২০ কোটি ডলার করে বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।
এ ছাড়া নতুন বিনিয়োগের সুযোগ চিহ্নিত করতে এফডিআই হিটম্যাপ তৈরি করেছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ। এতে উন্নতমানের বস্ত্র, ওষুধশিল্প, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অটোমোটিভ যন্ত্রাংশ, হালকা প্রকৌশল, জুতা ও চামড়াজাত পণ্যকে দ্রুত বিনিয়োগ প্রবেশের উপযোগী খাত হিসেবে ধরা হয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের দ্রুত সেবা দিতে বাংলাবিজের আওতায় তিন দিনের ‘বিজনেস স্টার্টার প্যাকেজ’ এবং ১৪ দিনের ‘বিজনেস রেডিনেস প্যাকেজ’ চালুর কাজও চলছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে বিনিয়োগের শুরু থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ করার লক্ষ্য রয়েছে।





















