ঢাকা, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬ | ই-পেপার

পাঠাওয়ের প্রায় ২ কোটি ব্যবহারকারীর তথ্য ফাঁসের হুমকি দিয়ে ৪ লাখ ডলার দাবি

দৈনিক আইন বার্তা
  • আপডেট সময়ঃ ১২:১৩:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৯ বার পড়া হয়েছে

ডিজিটাল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান পাঠাওয়ের প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ব্যবহারকারীর তথ্য নিজেদের দখলে থাকার দাবি করেছে একটি সাইবার অপরাধী চক্র। ডার্ক ওয়েবে প্রকাশিত দাবিতে বলা হয়েছে, তাদের হাতে ব্যবহারকারীদের মুঠোফোন নম্বর, ই-মেইল, জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, চালকের লাইসেন্স, অবস্থান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিতি ও বাসার ঠিকানাসহ বিভিন্ন তথ্য রয়েছে।

তথ্য প্রকাশ না করার বিনিময়ে পাঠাওয়ের কাছে ৪ লাখ মার্কিন ডলার দাবি করেছে চক্রটি। সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক প্ল্যাটফর্ম ডেইলি ডার্ক ওয়েব বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ দাবি প্রকাশ করে। তবে তথ্য চুরির দাবিটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ডার্ক ওয়েবের ওই পোস্টে চক্রটি দাবি করেছে, তাদের কাছে পাঠাওয়ের প্রায় ১৩৩ গিগাবাইট তথ্য রয়েছে। এসব তথ্য প্রায় ২৫ কোটি রেকর্ড ও ৫৯১টি তথ্যভাণ্ডারে সংরক্ষিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সবচেয়ে বড় তথ্যভাণ্ডারে ১ কোটি ৯০ লাখ ৬৩ হাজার ৯১৮টি হিসাবের তথ্য থাকার দাবি করা হয়েছে।

চক্রটির দাবি অনুযায়ী, তাদের কাছে ১ কোটি ৯০ লাখের বেশি জাতীয় পরিচয়পত্র ও মুঠোফোন নম্বর, সমপরিমাণ চালকের লাইসেন্সের তথ্য এবং প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ব্যবহারকারীর ছবি রয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ৫৭ লাখ বাসার ঠিকানাও তাদের হাতে থাকার দাবি করা হয়েছে।

পাঠাওয়ের অভ্যন্তরীণ ও ব্যবসায়িক তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার দাবিও করেছে চক্রটি। এসব তথ্যের মধ্যে কর্মীদের তথ্য, প্রশাসনিক প্রবেশাধিকারের নথি, ব্যবসায়ীদের ব্যাংক হিসাব, অর্থ লেনদেনের তথ্য, পণ্য সরবরাহের অবস্থান এবং চালকদের যাত্রার নথির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থ না দিলে জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক, কর্মী ও প্রশাসনিক তথ্য প্রকাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ৪ অক্টোবর সাইবার নিরাপত্তাজনিত একটি ঘটনা শনাক্ত করার কথা জানায় পাঠাও। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। এতে বিভিন্ন সেবা ব্যাহত হলেও পরে সেগুলো চালু করা হয়। পাঠাও জানিয়েছে, ঘটনায় নাম, ই-মেইল ঠিকানা ও ফোন নম্বরসহ কিছু ব্যক্তিগত তথ্য দুর্বৃত্তদের হাতে যাওয়ার বিষয়টি তারা জানতে পেরেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে দ্রুত স্বাধীন ডিজিটাল ফরেনসিক তদন্তের পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, সার্ভার, প্রবেশাধিকার-সংক্রান্ত নথি ও অন্যান্য ডিজিটাল আলামত সংরক্ষণের পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও আইন প্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে অবহিত করা জরুরি। ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রমাণের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়াকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

এ বিষয়ে পাঠাওয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিম আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

পাঠাওয়ের প্রায় ২ কোটি ব্যবহারকারীর তথ্য ফাঁসের হুমকি দিয়ে ৪ লাখ ডলার দাবি

আপডেট সময়ঃ ১২:১৩:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

ডিজিটাল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান পাঠাওয়ের প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ব্যবহারকারীর তথ্য নিজেদের দখলে থাকার দাবি করেছে একটি সাইবার অপরাধী চক্র। ডার্ক ওয়েবে প্রকাশিত দাবিতে বলা হয়েছে, তাদের হাতে ব্যবহারকারীদের মুঠোফোন নম্বর, ই-মেইল, জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, চালকের লাইসেন্স, অবস্থান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিতি ও বাসার ঠিকানাসহ বিভিন্ন তথ্য রয়েছে।

তথ্য প্রকাশ না করার বিনিময়ে পাঠাওয়ের কাছে ৪ লাখ মার্কিন ডলার দাবি করেছে চক্রটি। সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক প্ল্যাটফর্ম ডেইলি ডার্ক ওয়েব বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ দাবি প্রকাশ করে। তবে তথ্য চুরির দাবিটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ডার্ক ওয়েবের ওই পোস্টে চক্রটি দাবি করেছে, তাদের কাছে পাঠাওয়ের প্রায় ১৩৩ গিগাবাইট তথ্য রয়েছে। এসব তথ্য প্রায় ২৫ কোটি রেকর্ড ও ৫৯১টি তথ্যভাণ্ডারে সংরক্ষিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সবচেয়ে বড় তথ্যভাণ্ডারে ১ কোটি ৯০ লাখ ৬৩ হাজার ৯১৮টি হিসাবের তথ্য থাকার দাবি করা হয়েছে।

চক্রটির দাবি অনুযায়ী, তাদের কাছে ১ কোটি ৯০ লাখের বেশি জাতীয় পরিচয়পত্র ও মুঠোফোন নম্বর, সমপরিমাণ চালকের লাইসেন্সের তথ্য এবং প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ব্যবহারকারীর ছবি রয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ৫৭ লাখ বাসার ঠিকানাও তাদের হাতে থাকার দাবি করা হয়েছে।

পাঠাওয়ের অভ্যন্তরীণ ও ব্যবসায়িক তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার দাবিও করেছে চক্রটি। এসব তথ্যের মধ্যে কর্মীদের তথ্য, প্রশাসনিক প্রবেশাধিকারের নথি, ব্যবসায়ীদের ব্যাংক হিসাব, অর্থ লেনদেনের তথ্য, পণ্য সরবরাহের অবস্থান এবং চালকদের যাত্রার নথির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থ না দিলে জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক, কর্মী ও প্রশাসনিক তথ্য প্রকাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ৪ অক্টোবর সাইবার নিরাপত্তাজনিত একটি ঘটনা শনাক্ত করার কথা জানায় পাঠাও। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। এতে বিভিন্ন সেবা ব্যাহত হলেও পরে সেগুলো চালু করা হয়। পাঠাও জানিয়েছে, ঘটনায় নাম, ই-মেইল ঠিকানা ও ফোন নম্বরসহ কিছু ব্যক্তিগত তথ্য দুর্বৃত্তদের হাতে যাওয়ার বিষয়টি তারা জানতে পেরেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে দ্রুত স্বাধীন ডিজিটাল ফরেনসিক তদন্তের পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, সার্ভার, প্রবেশাধিকার-সংক্রান্ত নথি ও অন্যান্য ডিজিটাল আলামত সংরক্ষণের পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও আইন প্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে অবহিত করা জরুরি। ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রমাণের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়াকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

এ বিষয়ে পাঠাওয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিম আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।