ধর্মীয় সম্প্রীতির ঐতিহ্য অক্ষুন্ন রাখতে হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
- আপডেট সময়ঃ ০১:৪৫:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
- / ৯ বার পড়া হয়েছে
ধর্মীয় সম্প্রীতিকে বাংলাদেশের অনন্য সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, সব ধর্মের মানুষের পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ঐতিহ্য অক্ষুন্ন রাখতে হবে। পৃথিবীর অনেক বড় গণতান্ত্রিক দেশেও বাংলাদেশের মতো ধর্মীয় সম্প্রীতির নজির দেখা যায় না।
শুক্রবার সকালে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সভাকক্ষে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভা ও অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে নগরীর ৮৫টি দুর্গাপূজা মণ্ডপের প্রতিনিধিদের হাতে ৪০ হাজার টাকা করে মোট ৩৪ লাখ টাকার অনুদান তুলে দেন মন্ত্রী।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সব ধর্মের মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে নিজ-নিজ ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে সরকার সচেষ্ট রয়েছে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নেও সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করা হবে।
তিনি বলেন, সিলেটের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার আগে ও পরে মসজিদ, মন্দিরসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয় পরিদর্শন করেছেন। এসব প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধানে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক কাজ করছেন। দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজামণ্ডপগুলোতে আর্থিক অনুদান দেওয়ায় সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
নগরীর উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সিটি কর্পোরেশনের ৪২টি ওয়ার্ডে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে সাড়ে ৫০০ কিলোমিটারের উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি সড়কগুলোর উন্নয়নেও দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। পাশাপাশি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতাধীন সড়কগুলোর উন্নয়ন কাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ক্বিনব্রিজের পাশে সুরমা নদীর ওপর নতুন সেতু নির্মাণ এবং হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষের আবাসনের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নগরবাসীর বিশুদ্ধ পানির সংকট নিরসনে চেঙ্গেরখালের পানি শোধন করে সরবরাহের জন্যও বড় প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপনে সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করছে। যেকোনো প্রয়োজনে পূজামণ্ডপ ও মন্দির কমিটির প্রতিনিধিদের সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান তিনি।
সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন। আরও বক্তব্য দেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেডের পরিচালক বদরুজ্জামান সেলিম, রামকৃষ্ণ মিশন ও আশ্রমের অধ্যক্ষ স্বামী চন্দ্রনাথানন্দ মহারাজ, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি সুদীপ রঞ্জন সেন বাপ্পু এবং বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মৃত্যুঞ্জয় ধর ভোলা।




















