ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬ | ই-পেপার

নিষেধাজ্ঞা শেষে পদ্মায় মাছের আকাল, খালি হাতে ফিরছেন রাজবাড়ীর জেলেরা

দৈনিক আইন বার্তা
  • আপডেট সময়ঃ ০৬:০৫:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৩ বার পড়া হয়েছে

আদম আলী রাজবাড়ী প্রতিনিধি: মা ইলিশের প্রজনন সুরক্ষায় টানা ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে পদ্মা নদীতে ইলিশ শিকারে নামেন রাজবাড়ীর জেলেরা। দীর্ঘ বিরতির পর মাছ ধরতে নেমে প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবতা ভিন্ন। নদীতে জাল ফেলেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত মাছ। ফলে হতাশ হয়ে অনেক জেলেকেই ফিরতে হচ্ছে প্রায় খালি হাতে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ভোর থেকে রাজবাড়ীর বিভিন্ন মাছের ঘাট ও আড়তে ইলিশ আসতে শুরু করলেও সরবরাহ ছিল তুলনামূলক কম। এতে একদিকে জেলেদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে, অন্যদিকে মাছের সংকটে চড়া দামে ইলিশ কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

শুক্রবার সকালে রাজবাড়ী সদর উপজেলার ধাওয়াপাড়া ফেরিঘাট মাছবাজার ঘুরে দেখা যায়, অল্প কিছু মাছ নিয়ে ঘাটে ফিরছেন জেলেরা। অনেকেই ফিরছেন প্রায় খালি হাতে। আড়তগুলোতে ইলিশের সরবরাহ কম থাকায় বাজারে বেড়েছে মাছের দাম। সেখানে বড় ইলিশ প্রতি কেজি ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকা এবং ছোট ইলিশ ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

একই চিত্র দেখা গেছে গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের মাছের আড়তগুলোতেও। সেখানে বড় ইলিশ প্রতি কেজি প্রায় ৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং ছোট ইলিশ ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ধাওয়াপাড়া ফেরিঘাট এলাকার জেলে মসকুল বলেন, রাত ১২টার পর থেকেই মাছ ধরতে নদীতে নেমেছি। কিন্তু তেমন মাছ পাইনি। মাত্র ১ হাজার ৩০০ টাকার মাছ বিক্রি করতে পেরেছি।

একই এলাকার জেলে সরকত বলেন, ২২ দিন পর নদীতে নেমেছি। ভেবেছিলাম ভালো মাছ পাব। কিন্তু পদ্মায় মাছ নেই বললেই চলে। প্রায় খালি হাতে ফিরে আসতে হচ্ছে।

দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকার ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিবছর নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেদের মধ্যে মাছ ধরার ব্যাপক উৎসাহ থাকে। তবে এবার নদীতে মাছের পরিমাণ তুলনামূলক কম। সামান্য কিছু মাছ নিয়ে জেলেরা ঘাটে ফিরলেও সেগুলোর দাম অনেক বেশি।

ধাওয়াপাড়া ঘাটের আড়তদার ফরিদ শেখ বলেন, প্রতিবছর এ সময় বাজারে প্রচুর ইলিশ আসে। কিন্তু এবার মাছের পরিমাণ খুবই কম। নদীতে আগের মতো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না।

আড়তদার আকরাম শেখ বলেন, জেলেরা রাত ১২টা থেকে নদীতে মাছ ধরতে নেমেছেন। কিন্তু সকালে অনেকেই খালি হাতে ফিরেছেন। ফলে আড়তে ইলিশের সরবরাহ নেই বললেই চলে। মাছ ধরার আশায় অনেক জেলে আড়ত থেকে দাদন নিয়ে নৌকা ও জাল তৈরি করেছিলেন। কিন্তু এখন মাছ না পাওয়ায় তাদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে।

নিষেধাজ্ঞা শেষে নতুন করে মাছ ধরার মৌসুম শুরু হলেও পদ্মায় ইলিশের পর্যাপ্ত দেখা না মেলায় বিপাকে পড়েছেন রাজবাড়ীর জেলেরা। মাছের আশায় নদীতে নামলেও কাঙ্ক্ষিত মাছ না পাওয়ায় তাদের আয়-রোজগার নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

নিষেধাজ্ঞা শেষে পদ্মায় মাছের আকাল, খালি হাতে ফিরছেন রাজবাড়ীর জেলেরা

আপডেট সময়ঃ ০৬:০৫:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

আদম আলী রাজবাড়ী প্রতিনিধি: মা ইলিশের প্রজনন সুরক্ষায় টানা ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে পদ্মা নদীতে ইলিশ শিকারে নামেন রাজবাড়ীর জেলেরা। দীর্ঘ বিরতির পর মাছ ধরতে নেমে প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবতা ভিন্ন। নদীতে জাল ফেলেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত মাছ। ফলে হতাশ হয়ে অনেক জেলেকেই ফিরতে হচ্ছে প্রায় খালি হাতে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ভোর থেকে রাজবাড়ীর বিভিন্ন মাছের ঘাট ও আড়তে ইলিশ আসতে শুরু করলেও সরবরাহ ছিল তুলনামূলক কম। এতে একদিকে জেলেদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে, অন্যদিকে মাছের সংকটে চড়া দামে ইলিশ কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

শুক্রবার সকালে রাজবাড়ী সদর উপজেলার ধাওয়াপাড়া ফেরিঘাট মাছবাজার ঘুরে দেখা যায়, অল্প কিছু মাছ নিয়ে ঘাটে ফিরছেন জেলেরা। অনেকেই ফিরছেন প্রায় খালি হাতে। আড়তগুলোতে ইলিশের সরবরাহ কম থাকায় বাজারে বেড়েছে মাছের দাম। সেখানে বড় ইলিশ প্রতি কেজি ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকা এবং ছোট ইলিশ ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

একই চিত্র দেখা গেছে গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের মাছের আড়তগুলোতেও। সেখানে বড় ইলিশ প্রতি কেজি প্রায় ৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং ছোট ইলিশ ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ধাওয়াপাড়া ফেরিঘাট এলাকার জেলে মসকুল বলেন, রাত ১২টার পর থেকেই মাছ ধরতে নদীতে নেমেছি। কিন্তু তেমন মাছ পাইনি। মাত্র ১ হাজার ৩০০ টাকার মাছ বিক্রি করতে পেরেছি।

একই এলাকার জেলে সরকত বলেন, ২২ দিন পর নদীতে নেমেছি। ভেবেছিলাম ভালো মাছ পাব। কিন্তু পদ্মায় মাছ নেই বললেই চলে। প্রায় খালি হাতে ফিরে আসতে হচ্ছে।

দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকার ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিবছর নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেদের মধ্যে মাছ ধরার ব্যাপক উৎসাহ থাকে। তবে এবার নদীতে মাছের পরিমাণ তুলনামূলক কম। সামান্য কিছু মাছ নিয়ে জেলেরা ঘাটে ফিরলেও সেগুলোর দাম অনেক বেশি।

ধাওয়াপাড়া ঘাটের আড়তদার ফরিদ শেখ বলেন, প্রতিবছর এ সময় বাজারে প্রচুর ইলিশ আসে। কিন্তু এবার মাছের পরিমাণ খুবই কম। নদীতে আগের মতো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না।

আড়তদার আকরাম শেখ বলেন, জেলেরা রাত ১২টা থেকে নদীতে মাছ ধরতে নেমেছেন। কিন্তু সকালে অনেকেই খালি হাতে ফিরেছেন। ফলে আড়তে ইলিশের সরবরাহ নেই বললেই চলে। মাছ ধরার আশায় অনেক জেলে আড়ত থেকে দাদন নিয়ে নৌকা ও জাল তৈরি করেছিলেন। কিন্তু এখন মাছ না পাওয়ায় তাদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে।

নিষেধাজ্ঞা শেষে নতুন করে মাছ ধরার মৌসুম শুরু হলেও পদ্মায় ইলিশের পর্যাপ্ত দেখা না মেলায় বিপাকে পড়েছেন রাজবাড়ীর জেলেরা। মাছের আশায় নদীতে নামলেও কাঙ্ক্ষিত মাছ না পাওয়ায় তাদের আয়-রোজগার নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।