ঢাকা, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ | ই-পেপার

অনিবন্ধিত সুদ ব্যবসা: জেলা-উপজেলা পর্যায়ে ‘অভিযোগ বক্স’ স্থাপনের নির্দেশ

দৈনিক আইন বার্তা
  • আপডেট সময়ঃ ০৯:৪২:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ এপ্রিল ২০২২
  • / ৩৭২ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :
ক্ষুদ্রঋণের (মাইক্রোক্রেডিট) নামে সারাদেশে অনিবন্ধিত সুদের ব্যবসা পরিচালনাকারী সমবায় সমিতি ও এনজিও’র বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে ‘অভিযোগ বক্স’ স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) বলা হয়েছে। এর আগে সুদ ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরি করতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। ওই আদেশ যে সব জেলা প্রশাসক মানেননি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন সর্বোচ্চ আদালত। আজ মঙ্গলবার বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান ও বিচারপতি একেএম জাহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর অনিবন্ধিত সুদের ব্যবসা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে অননুমোদিত আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ক্ষুদ্র ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের বিষয়ে তদন্তে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এ ছাড়া ঋণদানকারী স্থানীয় সুদকারবারিদের তালিকা দিতে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এসব আদেশ প্রতিপালন করে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করতে সংশ্লিষ্টদের বলেছেন আদালত। এছাড়া ওইদিন রুল জারি করেন আদালত। রুলে লাইসেন্স এবং অনুমোদন ছাড়া ক্ষুদ্র ঋণদানকারী বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও তদারকিতে বিবাদীদের নীরবতা কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। অর্থ সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। ওইদিন আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। সারাদেশে চড়া সুদে ঋণদাতা মহাজনদের চিহ্নিত করার নির্দেশনা চেয়ে করা রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান ও বিচারপতি জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে ওইদিন রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর উস সাদিক। ওই রিটের ধারাবাহিক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে গতকাল মঙ্গলবার। এর আগে গত বছরের ৭ সেপ্টেম্বর ক্ষুদ্রঋণের নামে সুদের ব্যবস্থা বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে রিটটি করা হয়েছিল। ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন এ রিট করেন। রিটে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ৬৪ জেলার ডিসি ও এসপিকে বিবাদী করা হয়। আদেশের বিষয়ে রিটকারী আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বলেন, অননুমোদিত আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ক্ষুদ্র ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের বিষয়ে তদন্ত করতে একটি বিশেষ কমিটি গঠনে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

​জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের-এর বাসভবনে কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে ‘জাতীয় ছাত্র সমাজ’ ​ঢাকা, ১২ অক্টোবর ২০২৬: জাতীয় পার্টির মাননীয় চেয়ারম্যান, গণমানুষের নেতা জননেতা আলহাজ্ব গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের এমপি-এর রাজধানীর উত্তরার বাসভবনে একদল দুষ্কৃতকারী কর্তৃক হামলা, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুরের ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে জাতীয় ছাত্র সমাজ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি। ​ কতিপয় দুষ্কৃতকারী ও অরাজকতা সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বাসভবনে সন্ত্রাসী হামলা ও ভাঙচুর চালায়। একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক দেশে কোনো রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতার বাসভবনে এ ধরনের হীন ও কাপুরুষোচিত হামলা দেশের রাজনৈতিক সহাবস্থান ও শান্তিশৃঙ্খলার ওপর এক চরম আঘাত। এটি স্পষ্টতই রাজনীতিকে সহিংস করার এক ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র। ​জাতীয় ছাত্র সমাজ স্পষ্টভাবে জানাতে চান, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা কোনো ধরনের সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে জাতীয় পার্টি ও এর অঙ্গ-সংগঠনসমূহের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে থামানো যাবে না। পরিচ্ছন্ন রাজনীতি ও জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে জিএম কাদের-এর নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি সবসময় আপসহীন ভূমিকা পালন করে আসছে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এক সাক্ষাৎকারে ​দাবি ও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন : ১. অবিলম্বে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে এই হামলায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সকল সন্ত্রাসী ও দুষ্কৃতকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে। ২. বিরোধী রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে। ​যদি অবিলম্বে এই সন্ত্রাসী হামলার পেছনে থাকা অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না হয়, তবে জাতীয় ছাত্র সমাজ দেশের ছাত্র-জনতাকে সাথে নিয়ে রাজপথে কঠোর ও তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে।

৬

অনিবন্ধিত সুদ ব্যবসা: জেলা-উপজেলা পর্যায়ে ‘অভিযোগ বক্স’ স্থাপনের নির্দেশ

আপডেট সময়ঃ ০৯:৪২:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ এপ্রিল ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক :
ক্ষুদ্রঋণের (মাইক্রোক্রেডিট) নামে সারাদেশে অনিবন্ধিত সুদের ব্যবসা পরিচালনাকারী সমবায় সমিতি ও এনজিও’র বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে ‘অভিযোগ বক্স’ স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) বলা হয়েছে। এর আগে সুদ ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরি করতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। ওই আদেশ যে সব জেলা প্রশাসক মানেননি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন সর্বোচ্চ আদালত। আজ মঙ্গলবার বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান ও বিচারপতি একেএম জাহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর অনিবন্ধিত সুদের ব্যবসা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে অননুমোদিত আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ক্ষুদ্র ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের বিষয়ে তদন্তে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এ ছাড়া ঋণদানকারী স্থানীয় সুদকারবারিদের তালিকা দিতে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এসব আদেশ প্রতিপালন করে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করতে সংশ্লিষ্টদের বলেছেন আদালত। এছাড়া ওইদিন রুল জারি করেন আদালত। রুলে লাইসেন্স এবং অনুমোদন ছাড়া ক্ষুদ্র ঋণদানকারী বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও তদারকিতে বিবাদীদের নীরবতা কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। অর্থ সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। ওইদিন আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। সারাদেশে চড়া সুদে ঋণদাতা মহাজনদের চিহ্নিত করার নির্দেশনা চেয়ে করা রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান ও বিচারপতি জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে ওইদিন রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর উস সাদিক। ওই রিটের ধারাবাহিক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে গতকাল মঙ্গলবার। এর আগে গত বছরের ৭ সেপ্টেম্বর ক্ষুদ্রঋণের নামে সুদের ব্যবস্থা বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে রিটটি করা হয়েছিল। ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন এ রিট করেন। রিটে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ৬৪ জেলার ডিসি ও এসপিকে বিবাদী করা হয়। আদেশের বিষয়ে রিটকারী আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বলেন, অননুমোদিত আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ক্ষুদ্র ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের বিষয়ে তদন্ত করতে একটি বিশেষ কমিটি গঠনে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট।