টানা ৫ দিনের ভারী বর্ষণে বান্দরবানে- নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, জলাবদ্ধতায় চরম জনদুর্ভোগ
- আপডেট সময়ঃ ০৬:২০:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
- / ৫০ বার পড়া হয়েছে
মোঃ জুয়েল হোসাইন, বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি: টানা ৫ দিনের ভারী বর্ষণ এবং মাতামুহুরি নদীতে পাহাড়ি ঢলের কারণে বান্দরবান সদরস্থ বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। একই সঙ্গে বান্দরবান পৌরসভার অধিকাংশ ওয়ার্ডের নিচু এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা। এতে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টানা বৃষ্টিতে উপজেলার এবং ইউনিয়ন বিভিন্ন গ্রামীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অনেক এলাকায় বাড়িঘর, আঙিনা ও কৃষিজমি প্লাবিত হয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষা কার্যক্রম, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায়ও বিরূপ প্রভাব পড়েছে।
এদিকে বান্দরবান সদরস্থ বনানি সমিল এলাকায় এবং ওয়াপদা ব্রীজ শেরে বাংলা নগর এলাকায় গুলোতে ভারি বৃষ্টির কারণে অনেক পরিবার পানিতে বন্ধি অবস্থান আছে।
বান্দরবান জেলা প্রশাসক মোঃ সানিউল ফেরদৌস, বান্দরবান উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফা সুলতানা খান হীরামনি, নিরাপত্তাবাহিনী বান্দরবান সেনা জোনসহ পুলিশ জানান, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে দুই বান্দরবান ৭টি উপজেলায় বিভিন্ন ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য লামায়,থানচি,রুমার উপজেলায়সহ মাতামুহুরি পানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সুইচগেটের জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
এদিকে বান্দরবান আবহাওয়া অধিদপ্তরের এর কার্যালয় জানান, জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ২১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী কয়েকদিনও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে। অতিবৃষ্টির কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তিনি সতর্ক করেন।
তিনি আরও জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাহাড়সংলগ্ন ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন, নিরাপদ স্থানে অবস্থান এবং একান্ত প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না হলে জনদুর্ভোগ আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগীরা।























