ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬ | ই-পেপার

‘এক প্রজন্মে একবার’—বিরল সূর্যগ্রহণ দেখল ইউরোপ, মুগ্ধ লাখো মানুষ

দৈনিক আইন বার্তা
  • আপডেট সময়ঃ ০১:২৫:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৩ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের লাখ লাখ মানুষ গত প্রায় ৩০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে মনোমুগ্ধকর সূর্যগ্রহণের সাক্ষী হলো।
প্রজন্মের পর প্রজন্মে একবারই দেখা মেলে এমন এই মহাজাগতিক দৃশ্যটি উপভোগ করতে বেশ উৎসাহ দেখা গেছে উৎসুক মানুষের মধ্যে।
যুক্তরাজ্য থেকে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা গেছে, যা সবচেয়ে স্পষ্ট হয় ব্রিটিশ গ্রীষ্মকালীন সময় (BST) সন্ধ্যা ৭টার দিকে। সে সময় দেশটির অধিকাংশ এলাকা থেকে সূর্যের ৯০ শতাংশের বেশি অংশ চাঁদে ঢেকে যেতে দেখা যায়।

তবে গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড এবং স্পেনের কিছু অঞ্চলের মানুষ পূর্ণ সূর্যগ্রহণের অবিশ্বাস্য ও বিরল অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন, যেখানে কিছু সময়ের জন্য নেমে আসে সম্পূর্ণ অন্ধকার।

যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন স্থানে সূর্যগ্রহণ দেখার জন্য জড়ো হওয়া মানুষেরা চিৎকার ও আনন্দধ্বনির মাধ্যমে এ দৃশ্য উদযাপন করেন।

জ্যোতির্বিজ্ঞানপ্রেমীরা একে পুরো মহাবিশ্ব যে কতটা বিস্ময়কর, তা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা বলে অভিহিত করেন।

যেভাবে ঘটল এই মহাজাগতিক দৃশ্য
রাশিয়ার সাইবেরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় দূরবর্তী এলাকা থেকে এই পূর্ণ সূর্যগ্রহণের পথ শুরু হয়। এরপর উত্তর মহাসাগর হয়ে সন্ধ্যার দিকে আইসল্যান্ডে পৌঁছায় এটি। আর যুক্তরাজ্যে উত্তর স্কটল্যান্ডে সন্ধ্যা ৬টা এবং ইংল্যান্ডের দক্ষিণ উপকূলে ৬টা ২০ মিনিটের দিকে আংশিক সূর্যগ্রহণ শুরু হয়।

প্রথমে বিষয়টি তেমন বোঝা না গেলেও মেঘমুক্ত আকাশে ধীরে ধীরে চাঁদের ছায়া সূর্যকে ঢেকে ফেলতে শুরু করে। ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও পরিচিত স্থানগুলোতে অসংখ্য মানুষ চোখ রাখেন আকাশে। বিশেষ চশমার সংকট থাকায় অনেকে চালুনির ছিদ্র, সিরিয়ালের বাক্স কিংবা কাগজের টুকরো ব্যবহার করে নিরাপদে এ দৃশ্য উপভোগ করেন।

চাঁদ যখন সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে অবস্থান করে সূর্যের আলো পৃথিবীতে আসতে বাধা দেয়, তখনই সূর্যগ্রহণ ঘটে। যুক্তরাজ্যে সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী সম্পূর্ণ একই সরলরেখায় না থাকায় সেখানে আংশিক গ্রহণ দেখা যায়, যা ছিল ১৯৯৯ সালের পর সবচেয়ে বড় সূর্যগ্রহণ। তবে কর্নওয়ালে সর্বোচ্চ ৯৫% পর্যন্ত সূর্য ঢাকা পড়েছিল।

স্পেনে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ ও মহাজাগতিক অভিজ্ঞতা

স্পেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের শহর এ করুনায় স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৩০ মিনিটে (BST ৭টা ৩০ মিনিট) সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী একদম সোজা এক লাইনে চলে আসে এবং সেখানে ঘটে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ।

চিলির বিজ্ঞানী ইয়াসমিন কাত্রিচেও হাজার মাইল ভ্রমণ করে স্পেনে এসে এ দৃশ্য উপভোগ করেন। তিনি বলেন, পূর্ণ গ্রহণের সময় সবাই চিৎকার করে আনন্দ প্রকাশ করছিল। সেই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।

স্পেনে দুই মিনিটেরও কম স্থায়ী এই পূর্ণ সূর্যগ্রহণের সময় চাঁদের পেছনে সূর্যের লালচে দ্যুতি এবং বাইরের বায়ুমণ্ডলীয় বলয় বা ‘করোনা’ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সেই সাথে সূর্যের শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্রের কারণে তৈরি হওয়া গোলাপি রঙের গ্যাসের বলয়ও (প্রমিনেন্স) দেখা যায়।

পার্থিব দৃষ্টিকোণ থেকে সূর্য চাঁদের চেয়ে ৪০০ গুণ বড় হলেও এটি চাঁদ থেকে ৪০০ গুণ দূরে অবস্থান করায় দুটিকেই আকাশ থেকে একই আকারের দেখায়। এই বিরল বৈজ্ঞানিক সমাপতনের কারণেই মূলত পৃথিবী থেকে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা সম্ভব হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে পৃথিবী আরও কয়েকটি পূর্ণ সূর্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে যাবে, যা মহাকাশপ্রেমীদের জন্য একটি ‘স্বর্ণযুগ’। তবে যুক্তরাজ্যে ২০৮১ সালের আগে আর এমন ৯৯% ঢাকা পড়া দৃশ্য দেখা যাবে না এবং দেশটির পরবর্তী পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে ২০৯০ সাল পর্যন্ত।

সূত্র: বিবিসি

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

‘এক প্রজন্মে একবার’—বিরল সূর্যগ্রহণ দেখল ইউরোপ, মুগ্ধ লাখো মানুষ

আপডেট সময়ঃ ০১:২৫:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের লাখ লাখ মানুষ গত প্রায় ৩০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে মনোমুগ্ধকর সূর্যগ্রহণের সাক্ষী হলো।
প্রজন্মের পর প্রজন্মে একবারই দেখা মেলে এমন এই মহাজাগতিক দৃশ্যটি উপভোগ করতে বেশ উৎসাহ দেখা গেছে উৎসুক মানুষের মধ্যে।
যুক্তরাজ্য থেকে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা গেছে, যা সবচেয়ে স্পষ্ট হয় ব্রিটিশ গ্রীষ্মকালীন সময় (BST) সন্ধ্যা ৭টার দিকে। সে সময় দেশটির অধিকাংশ এলাকা থেকে সূর্যের ৯০ শতাংশের বেশি অংশ চাঁদে ঢেকে যেতে দেখা যায়।

তবে গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড এবং স্পেনের কিছু অঞ্চলের মানুষ পূর্ণ সূর্যগ্রহণের অবিশ্বাস্য ও বিরল অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন, যেখানে কিছু সময়ের জন্য নেমে আসে সম্পূর্ণ অন্ধকার।

যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন স্থানে সূর্যগ্রহণ দেখার জন্য জড়ো হওয়া মানুষেরা চিৎকার ও আনন্দধ্বনির মাধ্যমে এ দৃশ্য উদযাপন করেন।

জ্যোতির্বিজ্ঞানপ্রেমীরা একে পুরো মহাবিশ্ব যে কতটা বিস্ময়কর, তা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা বলে অভিহিত করেন।

যেভাবে ঘটল এই মহাজাগতিক দৃশ্য
রাশিয়ার সাইবেরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় দূরবর্তী এলাকা থেকে এই পূর্ণ সূর্যগ্রহণের পথ শুরু হয়। এরপর উত্তর মহাসাগর হয়ে সন্ধ্যার দিকে আইসল্যান্ডে পৌঁছায় এটি। আর যুক্তরাজ্যে উত্তর স্কটল্যান্ডে সন্ধ্যা ৬টা এবং ইংল্যান্ডের দক্ষিণ উপকূলে ৬টা ২০ মিনিটের দিকে আংশিক সূর্যগ্রহণ শুরু হয়।

প্রথমে বিষয়টি তেমন বোঝা না গেলেও মেঘমুক্ত আকাশে ধীরে ধীরে চাঁদের ছায়া সূর্যকে ঢেকে ফেলতে শুরু করে। ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও পরিচিত স্থানগুলোতে অসংখ্য মানুষ চোখ রাখেন আকাশে। বিশেষ চশমার সংকট থাকায় অনেকে চালুনির ছিদ্র, সিরিয়ালের বাক্স কিংবা কাগজের টুকরো ব্যবহার করে নিরাপদে এ দৃশ্য উপভোগ করেন।

চাঁদ যখন সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে অবস্থান করে সূর্যের আলো পৃথিবীতে আসতে বাধা দেয়, তখনই সূর্যগ্রহণ ঘটে। যুক্তরাজ্যে সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী সম্পূর্ণ একই সরলরেখায় না থাকায় সেখানে আংশিক গ্রহণ দেখা যায়, যা ছিল ১৯৯৯ সালের পর সবচেয়ে বড় সূর্যগ্রহণ। তবে কর্নওয়ালে সর্বোচ্চ ৯৫% পর্যন্ত সূর্য ঢাকা পড়েছিল।

স্পেনে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ ও মহাজাগতিক অভিজ্ঞতা

স্পেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের শহর এ করুনায় স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৩০ মিনিটে (BST ৭টা ৩০ মিনিট) সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী একদম সোজা এক লাইনে চলে আসে এবং সেখানে ঘটে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ।

চিলির বিজ্ঞানী ইয়াসমিন কাত্রিচেও হাজার মাইল ভ্রমণ করে স্পেনে এসে এ দৃশ্য উপভোগ করেন। তিনি বলেন, পূর্ণ গ্রহণের সময় সবাই চিৎকার করে আনন্দ প্রকাশ করছিল। সেই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।

স্পেনে দুই মিনিটেরও কম স্থায়ী এই পূর্ণ সূর্যগ্রহণের সময় চাঁদের পেছনে সূর্যের লালচে দ্যুতি এবং বাইরের বায়ুমণ্ডলীয় বলয় বা ‘করোনা’ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সেই সাথে সূর্যের শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্রের কারণে তৈরি হওয়া গোলাপি রঙের গ্যাসের বলয়ও (প্রমিনেন্স) দেখা যায়।

পার্থিব দৃষ্টিকোণ থেকে সূর্য চাঁদের চেয়ে ৪০০ গুণ বড় হলেও এটি চাঁদ থেকে ৪০০ গুণ দূরে অবস্থান করায় দুটিকেই আকাশ থেকে একই আকারের দেখায়। এই বিরল বৈজ্ঞানিক সমাপতনের কারণেই মূলত পৃথিবী থেকে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা সম্ভব হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে পৃথিবী আরও কয়েকটি পূর্ণ সূর্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে যাবে, যা মহাকাশপ্রেমীদের জন্য একটি ‘স্বর্ণযুগ’। তবে যুক্তরাজ্যে ২০৮১ সালের আগে আর এমন ৯৯% ঢাকা পড়া দৃশ্য দেখা যাবে না এবং দেশটির পরবর্তী পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে ২০৯০ সাল পর্যন্ত।

সূত্র: বিবিসি