কঙ্গোয় ইবোলা, ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী মহামারির শঙ্কা
- আপডেট সময়ঃ ১১:২৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
- / ৪ বার পড়া হয়েছে
গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআর কঙ্গো) ছড়িয়ে পড়া ইবোলা প্রাদুর্ভাব বর্তমান গতিতে চলতে থাকলে ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী ইবোলা সংক্রমণের রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
বুধবার (১২ আগস্ট) সাংবাদিকদের এ আশঙ্কার কথা জানান ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়েসুস। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পশ্চিম আফ্রিকায় চলা ভয়াবহ ইবোলা প্রাদুর্ভাবকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে কঙ্গোর বর্তমান সংক্রমণ।
পূর্ব কঙ্গোতে চলমান এই প্রাদুর্ভাবকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ইবোলা সংক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এতে ৪ হাজার ৩০০-এর বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন এবং ২ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছেন। এর বিপরীতে, ২০১৪-১৬ সালের পশ্চিম আফ্রিকার প্রাদুর্ভাবে অন্তত ২৮ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং প্রায় আট মাসে মৃতের সংখ্যা ১ হাজারে পৌঁছেছিল। শেষ পর্যন্ত ওই প্রাদুর্ভাবে ১১ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়।
ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টার ইরানি হুমকি নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দাদের সংশয়
বর্তমান প্রাদুর্ভাব আনুষ্ঠানিকভাবে ১৫ মে ঘোষণা করা হলেও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের জিনগত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এর সূত্রপাত আরও কয়েক মাস আগে, ফেব্রুয়ারিতে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ের অন্যান্য ইবোলা সংক্রমণের তুলনায় এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। কারণ, এর জন্য দায়ী বিরল ‘বান্দিবুগিও’ ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখনো অনুমোদিত কোনো টিকা বা চিকিৎসা নেই। তবে এ বিষয়ে কাজ চলছে।
নিয়ন্ত্রণের আগেই দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে
স্বাস্থ্য ও রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টার তুলনায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে ভাইরাসটি। পূর্ব কঙ্গোর একটি দুর্গম অঞ্চলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এলাকাটি দক্ষিণ সুদান, উগান্ডা ও রুয়ান্ডার সীমান্তের কাছাকাছি এবং সেখানে এখনো সংঘাত চলছে।
ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধে কাজ করছে ফেসবুকও!
অবকাঠামোগত দুর্বলতা, প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাব এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের সংকটের কারণে আক্রান্তদের অনেকেই চিকিৎসাসেবার আওতার বাইরে রয়েছেন। বেতন না পাওয়ার অভিযোগে কিছু স্বাস্থ্যকর্মী ধর্মঘটেও গেছেন।
এ ছাড়া বিভিন্ন এলাকায় ইবোলা নিয়ে নানা ধরনের ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় অনেকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে অনীহা দেখাচ্ছেন।
তেদরোস বলেন, প্রাদুর্ভাবটি শুরু থেকেই অনেকটা এগিয়ে রয়েছে এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা এখন পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মেলানোর চেষ্টা করছেন।
ডব্লিউএইচওর স্বাস্থ্য জরুরি সতর্কতা ও সাড়া কার্যক্রমের পরিচালক ডা. আবদিরাহমান মাহামুদ জানান, আগামী ছয় মাসের মধ্যে সংক্রমণের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এটি একটি মাঝারি মাত্রার পূর্বাভাস। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে প্রাদুর্ভাব নয় থেকে ১২ মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
‘প্রতিবেশী দেশে হামলার জন্য ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহারের সুযোগ নেই’
বান্দিবুগিও ইবোলার দুটি টিকার পরীক্ষা চলছে
ইবোলা বিরল হলেও অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির বমি, রক্ত বা বীর্যের মতো শারীরিক তরল এবং দূষিত বিছানা ও পোশাকের মতো সামগ্রীর সংস্পর্শে এ রোগ ছড়াতে পারে। রোগটি গুরুতর এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী।
কঙ্গোর সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত পাঁচটি প্রদেশের অন্যতম ইতুরিতে গত মাসে এই ধরনের ইবোলার সম্ভাব্য দুটি চিকিৎসার ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা শুরু হয়েছে।
টাকার বিনিময়ে সরকারি আগাম তথ্য বিক্রি! ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা
ডব্লিউএইচও প্রধান তেদরোস জানান, বান্দিবুগিও ভাইরাসের জন্য বিশেষভাবে তৈরি দুটি টিকার মানবদেহে পরীক্ষা প্রথমবারের মতো শুরু হয়েছে। পাশাপাশি, আগে থেকে ব্যবহৃত একটি ইবোলা টিকা এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে পারে কি না, সেটিও পরীক্ষা করার পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি। প্রাণীর ওপর পরীক্ষায় এ বিষয়ে আশাব্যঞ্জক ফল পাওয়া গেছে।
এদিকে, প্রাদুর্ভাবটির উৎস সম্পর্কেও নতুন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। সোমবার ‘নেচার মেডিসিন’-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় প্রমাণ মিলেছে, সংক্রমণটি সম্ভবত কোনো আক্রান্ত প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার মাধ্যমে শুরু হয়েছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, ভাইরাসটির জিনগত বৈশিষ্ট্য ২০০৭ ও ২০১২ সালের বান্দিবুগিও ইবোলা প্রাদুর্ভাবের ভাইরাসের তুলনায় ভিন্ন।
সূত্র: ইউরো নিউজ।




















