ঢাকা, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬ | ই-পেপার

কিশোরীকে ধর্ষণ-হত্যার জেরে আসামিদের বাড়িতে আগুন, নিহত ৩

দৈনিক আইন বার্তা
  • আপডেট সময়ঃ ০৪:৫৬:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
  • / ২৩ বার পড়া হয়েছে

পাবনায় নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা ঘটেছে। পরে ওই কিশোরীর মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনার জেরে উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তদের বাড়িতে আগুন দেয়। এতে দগ্ধ হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ৭ জন।

স্থানীয়রা জানায়, গত বুধবার (৩ জুন) বিকেলে পাবনার ভাড়ারায় পদ্মা নদী থেকে পাবনার এক স্কুল শিক্ষার্থীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরের দিন ৪ জুন তার মরদেহ দাফন করা হয়। দাফন শেষে উত্তেজিত জনতা আসামিদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে ওই বাড়ির সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়ে আশপাশের অন্তত ১০ জন দগ্ধ হন। তাদের উদ্ধার করে প্রথমে পাবনা জেনারেল হাসপাতাল ও পরে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। এদের মধ্যে তিনজন মারা যায়। অন্য ৭ জনের মধ্যে দুইজনের অবস্থা গুরুতর।

মঙ্গলবার সকালে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুইজনের মৃত্যু হয়। এর আগে সোমবার (৮ জুন) সন্ধ্যায় একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়।

নিহতরা হলেন, পাবনা সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের পূর্ব রাঘবপুর গ্রামের তজির উদ্দিন শেখের ছেলে সুমন শেখ, পার্শ্ববর্তী নতুনপাড়া এলাকার শকুর হোসেনের ছেলে সাইফুল ইসলাম সাব্বির এবং একই এলাকার মৃত ইউসুফ আলী ছেলে শফি ওরফে সাপু।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার একজন এবং আজ মঙ্গলবার দুইজনের মৃত্যু হয়। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনুর রহমান বলেন, গত ৩ জুন পাবনা সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের বলরামপুর এলাকায় পদ্মা নদী থেকে বস্তাবন্দি ও হাত-বাঁধা অবস্থায় এক নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত মো. নাঈমসহ (২০) তার দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার অন্য দুজন হলেন- পূর্ব রাঘবপুর গ্রামের মো. ইয়াসিন শেখ (২১) ও মো. তুহিন প্রামানিক (১৮)। এ সময় লাশ গুমের কাজে ব্যবহৃত সেই আলোচিত সাদা রঙের প্রাইভেটকারটিও জব্দ করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, পাবনা শহরের কাশেম প্রামানিকের ছেলে নাঈমের সঙ্গে ওই স্কুলছাত্রী দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত ২ জুন ওই ছাত্রী প্রেমিক নাঈমের বাড়িতে বেড়াতে যায়। পরে তাদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে নাইম পুলিশকে জানায়, কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে নাঈম ক্ষিপ্ত হয়ে ধারাল চাকু বের করে কিশোরীকে ভয়ভীতি দেখায়। এতে ওই ছাত্রী শান্ত না হলে নাঈম তাকে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর নাঈম ঘটনা ধামাচাপা দিতে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ইয়াসিন ও তুহিনকে নিজের বাড়িতে ডেকে আনে। পরে তারা বাজার থেকে প্লাস্টিকের মুরগির বস্তা ও ব্যাগ সংগ্রহ করে কিশোরীর হাত বেঁধে লাশটি বস্তাবন্দি করে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনুর রহমান আরও বলেন, ৪ জুন তার মরদেহ দাফনের পরে উত্তেজিত জনতা আসামিদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে আসামিদের বাড়ির সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়ে আশপাশের অন্তত ১০ জন দগ্ধ হন। এদের মধ্যে তিনজন মারা যায়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

কিশোরীকে ধর্ষণ-হত্যার জেরে আসামিদের বাড়িতে আগুন, নিহত ৩

আপডেট সময়ঃ ০৪:৫৬:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

পাবনায় নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা ঘটেছে। পরে ওই কিশোরীর মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনার জেরে উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তদের বাড়িতে আগুন দেয়। এতে দগ্ধ হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ৭ জন।

স্থানীয়রা জানায়, গত বুধবার (৩ জুন) বিকেলে পাবনার ভাড়ারায় পদ্মা নদী থেকে পাবনার এক স্কুল শিক্ষার্থীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরের দিন ৪ জুন তার মরদেহ দাফন করা হয়। দাফন শেষে উত্তেজিত জনতা আসামিদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে ওই বাড়ির সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়ে আশপাশের অন্তত ১০ জন দগ্ধ হন। তাদের উদ্ধার করে প্রথমে পাবনা জেনারেল হাসপাতাল ও পরে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। এদের মধ্যে তিনজন মারা যায়। অন্য ৭ জনের মধ্যে দুইজনের অবস্থা গুরুতর।

মঙ্গলবার সকালে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুইজনের মৃত্যু হয়। এর আগে সোমবার (৮ জুন) সন্ধ্যায় একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়।

নিহতরা হলেন, পাবনা সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের পূর্ব রাঘবপুর গ্রামের তজির উদ্দিন শেখের ছেলে সুমন শেখ, পার্শ্ববর্তী নতুনপাড়া এলাকার শকুর হোসেনের ছেলে সাইফুল ইসলাম সাব্বির এবং একই এলাকার মৃত ইউসুফ আলী ছেলে শফি ওরফে সাপু।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার একজন এবং আজ মঙ্গলবার দুইজনের মৃত্যু হয়। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনুর রহমান বলেন, গত ৩ জুন পাবনা সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের বলরামপুর এলাকায় পদ্মা নদী থেকে বস্তাবন্দি ও হাত-বাঁধা অবস্থায় এক নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত মো. নাঈমসহ (২০) তার দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার অন্য দুজন হলেন- পূর্ব রাঘবপুর গ্রামের মো. ইয়াসিন শেখ (২১) ও মো. তুহিন প্রামানিক (১৮)। এ সময় লাশ গুমের কাজে ব্যবহৃত সেই আলোচিত সাদা রঙের প্রাইভেটকারটিও জব্দ করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, পাবনা শহরের কাশেম প্রামানিকের ছেলে নাঈমের সঙ্গে ওই স্কুলছাত্রী দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত ২ জুন ওই ছাত্রী প্রেমিক নাঈমের বাড়িতে বেড়াতে যায়। পরে তাদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে নাইম পুলিশকে জানায়, কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে নাঈম ক্ষিপ্ত হয়ে ধারাল চাকু বের করে কিশোরীকে ভয়ভীতি দেখায়। এতে ওই ছাত্রী শান্ত না হলে নাঈম তাকে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর নাঈম ঘটনা ধামাচাপা দিতে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ইয়াসিন ও তুহিনকে নিজের বাড়িতে ডেকে আনে। পরে তারা বাজার থেকে প্লাস্টিকের মুরগির বস্তা ও ব্যাগ সংগ্রহ করে কিশোরীর হাত বেঁধে লাশটি বস্তাবন্দি করে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনুর রহমান আরও বলেন, ৪ জুন তার মরদেহ দাফনের পরে উত্তেজিত জনতা আসামিদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে আসামিদের বাড়ির সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়ে আশপাশের অন্তত ১০ জন দগ্ধ হন। এদের মধ্যে তিনজন মারা যায়।