ঢাকা, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬ | ই-পেপার

চবিতে দেশের একমাত্র ওশান স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশনের উদ্বোধন

দৈনিক আইন বার্তা
  • আপডেট সময়ঃ ০৪:৩০:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
  • / ২০ বার পড়া হয়েছে

দীর্ঘ ছয় বছরের প্রস্তুতি ও ১৬ মাসের অবকাঠামোগত কাজ শেষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) দেশের প্রথম ওশান স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশনের উদ্বোধন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও জাপানের বিভিন্ন আবহাওয়া ও সমুদ্র পর্যবেক্ষণকারী স্যাটেলাইট থেকে সরাসরি তথ্য সংগ্রহ করা যাবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব তথ্য ব্যবহার করে মাছের অবস্থান শনাক্ত, ঘূর্ণিঝড়সহ বিভিন্ন দুর্যোগের পূর্বাভাস এবং উপকূলীয় এলাকার সতর্কতা জোরদার করা সম্ভব হবে।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিজ অনুষদ এলাকায় স্থাপিত ‘চীন–বাংলাদেশ ওশান স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন ফর মেরিন রিমোট সেন্সিং’ বা ‘স্যাটেলাইট ওশান অবজারভেশন অ্যান্ড ডাটা ইনোভেশন সেন্টার’-এর ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে কেন্দ্রটির উদ্বোধন করেন সরকারের ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মীর হেলাল উদ্দিন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ২০২০ সালে চীনের ন্যাশনাল ওশানিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সেকেন্ড ইনস্টিটিউট অব ওশানোগ্রাফি (এসআইও) এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে এ বিষয়ে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ২০২৫ সালের ২৬ মার্চ প্রকল্পের অবকাঠামোগত কাজ শুরু হয়। যদিও প্রকল্পটিতে কোনো আর্থিক লেনদেনের চুক্তি হয়নি, তবে অংশীদার প্রতিষ্ঠানটির যন্ত্রপাতি সরবরাহ ও স্যাটেলাইট ডাটা ফিসহ সম্ভাব্য ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ৫০ কোটি টাকা। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সহায়তার আনুমানিক মূল্য ২০ কোটি টাকার বেশি। তবে এটি কোনো চুক্তিবদ্ধ বাজেট নয়, বরং উভয় পক্ষের সম্ভাব্য অবদানের একটি ধারণামূলক হিসাব।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, গ্রাউন্ড স্টেশনটি ১১টি আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছে। এসব স্যাটেলাইট থেকে সংগৃহীত তথ্য গবেষণার মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে জাতীয় ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে সরবরাহ করা হবে। এটি একটি বেসামরিক গবেষণাভিত্তিক ডাউনলিংক গ্রাউন্ড স্টেশন। এখানে কোনো আপলিংক সুবিধা নেই। কেন্দ্রটিতে ব্যবহৃত ফ্রিকোয়েন্সিও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) অনুমোদিত।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মীর হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘প্রকল্পের লক্ষ্য পূরণে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ, উচ্চগতির ইন্টারনেটসহ অবকাঠামোগত সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করবে। এ কেন্দ্রের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরাসরি স্যাটেলাইট তথ্য গ্রহণের সুযোগ পাবে, ফলে আবহাওয়ার পূর্বাভাস আরও নির্ভুল হবে।’

পাশাপাশি ব্লু ইকোনমি, মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা, নৌপরিবহন ও উপকূলীয় উন্নয়নে এ তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক দিন। চীনের অর্থায়নে দেশে প্রথমবারের মতো এ ধরনের স্যাটেলাইট স্টেশন স্থাপিত হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানাই। এ কেন্দ্রের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা সমুদ্র ও মৎস্যসম্পদ–সংক্রান্ত রিয়েল-টাইম তথ্য ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা ডেটা বিশ্লেষণে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নিয়ে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ, ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন।

এ ছাড়া বাংলাদেশে নিযুক্ত চীন দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সিলর লি শেওপেং এবং সেকেন্ড ইনস্টিটিউট অব ওশানোগ্রাফির ডেপুটি ডিরেক্টর অধ্যাপক ফু বিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ফলক উন্মোচনের পর অতিথিরা গ্রাউন্ড স্টেশন পরিদর্শন করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের মিলনায়তনে এ উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

চবিতে দেশের একমাত্র ওশান স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশনের উদ্বোধন

আপডেট সময়ঃ ০৪:৩০:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

দীর্ঘ ছয় বছরের প্রস্তুতি ও ১৬ মাসের অবকাঠামোগত কাজ শেষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) দেশের প্রথম ওশান স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশনের উদ্বোধন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও জাপানের বিভিন্ন আবহাওয়া ও সমুদ্র পর্যবেক্ষণকারী স্যাটেলাইট থেকে সরাসরি তথ্য সংগ্রহ করা যাবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব তথ্য ব্যবহার করে মাছের অবস্থান শনাক্ত, ঘূর্ণিঝড়সহ বিভিন্ন দুর্যোগের পূর্বাভাস এবং উপকূলীয় এলাকার সতর্কতা জোরদার করা সম্ভব হবে।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিজ অনুষদ এলাকায় স্থাপিত ‘চীন–বাংলাদেশ ওশান স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন ফর মেরিন রিমোট সেন্সিং’ বা ‘স্যাটেলাইট ওশান অবজারভেশন অ্যান্ড ডাটা ইনোভেশন সেন্টার’-এর ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে কেন্দ্রটির উদ্বোধন করেন সরকারের ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মীর হেলাল উদ্দিন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ২০২০ সালে চীনের ন্যাশনাল ওশানিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সেকেন্ড ইনস্টিটিউট অব ওশানোগ্রাফি (এসআইও) এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে এ বিষয়ে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ২০২৫ সালের ২৬ মার্চ প্রকল্পের অবকাঠামোগত কাজ শুরু হয়। যদিও প্রকল্পটিতে কোনো আর্থিক লেনদেনের চুক্তি হয়নি, তবে অংশীদার প্রতিষ্ঠানটির যন্ত্রপাতি সরবরাহ ও স্যাটেলাইট ডাটা ফিসহ সম্ভাব্য ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ৫০ কোটি টাকা। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সহায়তার আনুমানিক মূল্য ২০ কোটি টাকার বেশি। তবে এটি কোনো চুক্তিবদ্ধ বাজেট নয়, বরং উভয় পক্ষের সম্ভাব্য অবদানের একটি ধারণামূলক হিসাব।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, গ্রাউন্ড স্টেশনটি ১১টি আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছে। এসব স্যাটেলাইট থেকে সংগৃহীত তথ্য গবেষণার মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে জাতীয় ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে সরবরাহ করা হবে। এটি একটি বেসামরিক গবেষণাভিত্তিক ডাউনলিংক গ্রাউন্ড স্টেশন। এখানে কোনো আপলিংক সুবিধা নেই। কেন্দ্রটিতে ব্যবহৃত ফ্রিকোয়েন্সিও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) অনুমোদিত।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মীর হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘প্রকল্পের লক্ষ্য পূরণে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ, উচ্চগতির ইন্টারনেটসহ অবকাঠামোগত সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করবে। এ কেন্দ্রের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরাসরি স্যাটেলাইট তথ্য গ্রহণের সুযোগ পাবে, ফলে আবহাওয়ার পূর্বাভাস আরও নির্ভুল হবে।’

পাশাপাশি ব্লু ইকোনমি, মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা, নৌপরিবহন ও উপকূলীয় উন্নয়নে এ তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক দিন। চীনের অর্থায়নে দেশে প্রথমবারের মতো এ ধরনের স্যাটেলাইট স্টেশন স্থাপিত হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানাই। এ কেন্দ্রের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা সমুদ্র ও মৎস্যসম্পদ–সংক্রান্ত রিয়েল-টাইম তথ্য ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা ডেটা বিশ্লেষণে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নিয়ে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ, ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন।

এ ছাড়া বাংলাদেশে নিযুক্ত চীন দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সিলর লি শেওপেং এবং সেকেন্ড ইনস্টিটিউট অব ওশানোগ্রাফির ডেপুটি ডিরেক্টর অধ্যাপক ফু বিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ফলক উন্মোচনের পর অতিথিরা গ্রাউন্ড স্টেশন পরিদর্শন করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের মিলনায়তনে এ উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।