এমপি আয়নুল হকের ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর
- আপডেট সময়ঃ ১১:৫৫:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৭ বার পড়া হয়েছে
তাড়াশ(সিরাজগঞ্জ)প্রতিনিধিঃ
সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) আসনের সংসদ সদস্য মো. আয়নুল হকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তার গাড়ির কাচ ভাঙচুর করা হয়।
রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া বাজার এলাকায় শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
এর আগে ধানগড়া আড়চালা এলাকায় উপজেলা পরিষদের অধীনে দ্রুত কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) স্থাপনের দাবিতে আয়োজিত সুধী সমাবেশ ও মতবিনিময় সভায় অংশ নেন সংসদ সদস্য আয়নুল হক। সভা শেষে গাড়িবহর নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পর আয়নুল হক দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে ফেসবুক লাইভে আসেন। সেখানে তিনি নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
আয়নুল হকের সঙ্গে থাকা ফয়সাল বিশ্বাসের ফেসবুক আইডি থেকে প্রচারিত লাইভে এমপি আয়নুল হক অভিযোগ করেন, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) লোকজন হত্যার উদ্দেশ্যে তাঁর ওপর হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে বের হয়ে একজন সংসদ সদস্যও যদি নিরাপদ না থাকেন, তাহলে বিষয়টি উদ্বেগজনক।
ফয়সাল বিশ্বাস অভিযোগ করেন, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্রশিবির ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা এমপির গাড়িবহরে হামলা করেছেন।
তবে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীরা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, এমপির সঙ্গে থাকা ফয়সাল বিশ্বাস অনুষ্ঠানে এসে তাদের উসকানিমূলক বক্তব্য দেন এবং কয়েকজন বিএনপি নেতা-কর্মী তাঁদের ওপর হামলা চালান।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থী মো. শেখ রিয়াদ ও শ্রাবণ বলেন, “ফয়সাল বিশ্বাসকে অনুষ্ঠানে দাওয়াত দেওয়া হয়নি। তিনি সেখানে এসে শিক্ষার্থীদের ‘জঙ্গি’সহ বিভিন্ন ধরনের ট্যাগ দিয়ে গালাগাল করেন”।
তাদের দাবি, এমপির গাড়িবহর ঘটনাস্থল ত্যাগের সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজও রয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
এমপি আয়নুল হক বলেন, “আজ আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কতিপয় ব্যক্তি হামলা করেছে। তাদের হাতে অস্ত্র ছিল, আমি নিজ চোখে দেখেছি। প্রশাসন আজ রাতেই এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করবে”।
এ ঘটনায় তিনি জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থী এবং বিএনপির কতিপয় নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ করেন।
তবে রায়গঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ডা. এসএম মুনসুর আলী হামলার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
তিনি বলেন, “ঘটনার সময় তিনি সিরাজগঞ্জ শহরে ছিলাম। ছাত্রশিবিরের সভাপতির সঙ্গে কথা বললেও তিনিও বিষয়টি সম্পর্কে ‘অবগত নন’ বলে জানিয়েছেন”।
তবে হামলার নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
এদিকে হামলার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রশিবির, এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের দায়ী করে বিক্ষোভ করেছে বিএনপি। অন্যদিকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে পাল্টা হামলার অভিযোগ করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মতবিনিময় সভা শেষে এমপি আয়নুল হক গাড়িবহর নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় সেখানে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে তাঁর গাড়ির কাচ ভাঙচুর করা হয়।
রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম খান বলেন, “হামলায় এমপি আঘাতপ্রাপ্ত হননি। তবে তার গাড়ির কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি”।
জেলা বিএনপির সহপ্রচার সম্পাদক ও ধানগড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম খান জানান, উপজেলায় কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের বিষয় নিয়ে ধানগড়া বাজারে জরুরি মতবিনিময় সভা ছিল। তিনি তখন শহরে থাকায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। পরে ঘটনা জানতে পেরে রায়গঞ্জের উদ্দেশে রওনা হন।
ঘটনার পর রায়গঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পরে রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল খালেক পাটোয়ারী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।























