আনন্দভ্রমণ পরিণত হলো কান্নায়, ৩৫ ঘণ্টা পর পদ্মা থেকে শৈলকুপা ছাত্রদল নেতা রকির মরদেহ উদ্ধার
- আপডেট সময়ঃ ০৭:০৬:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১০ বার পড়া হয়েছে
মোঃ তরিকুল ইসলাম, ঝিনাইদহ: বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দভ্রমণে গিয়ে পদ্মা নদীতে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ৩৫ ঘণ্টা পর ঝিনাইদহের শৈলকুপা পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব রাকিবুজ্জামান রকির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার আকাতের ঘাট এলাকা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। রাকিবুজ্জামান রকি শৈলকুপা পৌর এলাকার কবিরপুর গ্রামের মৃত হাসানুজ্জামানের ছেলে।
জানা যায়, শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে শৈলকুপার কাতলাগড়ী ঘাট থেকে ১২৩ জনের একটি দল বাল্কহেডে করে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় হযরত সোলাইমান শাহ্ (র.)-এর মাজার জিয়ারত ও আনন্দভ্রমণে যায়। দিনভর ভ্রমণ শেষে রাতে নদীপথে তারা বাড়ি ফিরছিলেন।
রাত আনুমানিক ৯টা ১০ মিনিটের দিকে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে পদ্মা নদীর তীব্র স্রোতে বাল্কহেডটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের ৪ নম্বর পিলারে ধাক্কা দেয়। এতে বাল্কহেডের পেছনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে রাকিবুজ্জামান রকি, লিটন কুমার দাস ও আব্দুল ওহাব নদীতে পড়ে যান।
পরবর্তীতে লিটন ও আব্দুল ওহাবকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও রকি নিখোঁজ ছিলেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ পুলিশ উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে রাতের অন্ধকার ও পদ্মার তীব্র স্রোতের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি।
দীর্ঘ ৩৫ ঘণ্টা পর রোববার সকালে ঈশ্বরদীর আকাতের ঘাট এলাকায় তাঁর মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়। খবর পেয়ে স্বজনরা সেখানে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন।
শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির জানান, স্বজনরা মরদেহের সন্ধান পেয়ে ঈশ্বরদীতে গেছেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ শৈলকুপার কবিরপুরে নিয়ে দাফন করা হবে।
রকির মৃত্যুর খবর শৈলকুপায় ছড়িয়ে পড়লে তাঁর পরিবার, স্বজন, সহকর্মী ও রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক ও পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন শৈলকুপার এমপি ও আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। এক ফেসবুক পোস্টে তিনি রকির মৃত্যুতে দলের একজন উদীয়মান ও পরীক্ষিত কর্মীকে হারানোর কথা উল্লেখ করে এ ঘটনাকে অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে অভিহিত করেন।



















