ঢাকা, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ই-পেপার

গাইবান্ধায় জমি বিরোধে পুনঃতদন্তের দাবি তহসিলদারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ, অপসারণ চাইলেন ভুক্তভোগীরা

দৈনিক আইন বার্তা
  • আপডেট সময়ঃ ০৭:০৭:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৯ বার পড়া হয়েছে

গাইবান্ধা প্রতিনিধি: গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে অভিযোগের পুনঃতদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট তহসিলদারের অপসারণ দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা।

রোববার দুপুরে উপজেলার পন্ডিতপুর গ্রামে ভুক্তভোগী পরিবারের নিজ বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মকবুল হোসেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, পন্ডিতপুর মৌজার জেএল নং-৮৬ এর ৫ নম্বর খতিয়ানের ৫০৫ নম্বর দাগভুক্ত প্রায় ৭ একর জমি দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর ধরে পন্ডিতপুর গ্রামের ১৫ থেকে ১৬টি পরিবার চাষাবাদসহ ভোগদখল করে আসছে। সম্প্রতি একই গ্রামের সাঁওতাল সম্প্রদায়ের লুকাস মরমু, বীরেন মরমু ও ইস্তিফানসহ কয়েকজন ব্যক্তি জমিগুলো তাদের পৈতৃক সম্পত্তি বলে দাবি করছেন।

তিনি আরও বলেন, বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে তারা জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান। কিন্তু সাপমারা ইউনিয়নে কর্মরত ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা (তহসিলদার) বেলাল হোসেন তাদের না জানিয়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে যোগসাজশ করে গোপনে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মকবুল হোসেন বলেন, “বিষয়টির নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু পুনঃতদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। একই সঙ্গে অভিযুক্ত তহসিলদার বেলাল হোসেনের অপসারণ দাবি করছি।”

সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল কুদ্দুস সরকার, বাদশা মিয়া, লোকমান হোসেন, শাহীন মিয়া, রাজ্জাক মণ্ডল, মোস্তফা, জাফিরুল ইসলাম, ওয়েজ কুরনী, আবদুল মতিন ও আবদুল লতিফসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযোগের বিষয়ে প্রতিপক্ষ লুকাস মরমু ও বীরেন মরমু বলেন, “জমিগুলো আমাদের বাপ-দাদার সম্পত্তি। দীর্ঘদিন ধরে অন্যরা জোরপূর্বক দখলে রেখেছেন। জমি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করায় বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে।”

এ বিষয়ে সাপমারা ইউনিয়নের ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা (তহসিলদার) বেলাল হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “তদন্ত প্রতিবেদন গোপনে দাখিলের বিষয়টি সঠিক নয়। আমার জানা মতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে নোটিশ দিয়ে অফিসে ডাকা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

গাইবান্ধায় জমি বিরোধে পুনঃতদন্তের দাবি তহসিলদারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ, অপসারণ চাইলেন ভুক্তভোগীরা

আপডেট সময়ঃ ০৭:০৭:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাইবান্ধা প্রতিনিধি: গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে অভিযোগের পুনঃতদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট তহসিলদারের অপসারণ দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা।

রোববার দুপুরে উপজেলার পন্ডিতপুর গ্রামে ভুক্তভোগী পরিবারের নিজ বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মকবুল হোসেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, পন্ডিতপুর মৌজার জেএল নং-৮৬ এর ৫ নম্বর খতিয়ানের ৫০৫ নম্বর দাগভুক্ত প্রায় ৭ একর জমি দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর ধরে পন্ডিতপুর গ্রামের ১৫ থেকে ১৬টি পরিবার চাষাবাদসহ ভোগদখল করে আসছে। সম্প্রতি একই গ্রামের সাঁওতাল সম্প্রদায়ের লুকাস মরমু, বীরেন মরমু ও ইস্তিফানসহ কয়েকজন ব্যক্তি জমিগুলো তাদের পৈতৃক সম্পত্তি বলে দাবি করছেন।

তিনি আরও বলেন, বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে তারা জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান। কিন্তু সাপমারা ইউনিয়নে কর্মরত ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা (তহসিলদার) বেলাল হোসেন তাদের না জানিয়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে যোগসাজশ করে গোপনে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মকবুল হোসেন বলেন, “বিষয়টির নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু পুনঃতদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। একই সঙ্গে অভিযুক্ত তহসিলদার বেলাল হোসেনের অপসারণ দাবি করছি।”

সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল কুদ্দুস সরকার, বাদশা মিয়া, লোকমান হোসেন, শাহীন মিয়া, রাজ্জাক মণ্ডল, মোস্তফা, জাফিরুল ইসলাম, ওয়েজ কুরনী, আবদুল মতিন ও আবদুল লতিফসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযোগের বিষয়ে প্রতিপক্ষ লুকাস মরমু ও বীরেন মরমু বলেন, “জমিগুলো আমাদের বাপ-দাদার সম্পত্তি। দীর্ঘদিন ধরে অন্যরা জোরপূর্বক দখলে রেখেছেন। জমি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করায় বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে।”

এ বিষয়ে সাপমারা ইউনিয়নের ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা (তহসিলদার) বেলাল হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “তদন্ত প্রতিবেদন গোপনে দাখিলের বিষয়টি সঠিক নয়। আমার জানা মতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে নোটিশ দিয়ে অফিসে ডাকা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”