ঢাকা, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ | ই-পেপার

পিরোজপুরে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে কুপিয়ে হত্যায় আলমগীরের মৃত্যুদন্ড বহাল

দৈনিক আইন বার্তা
  • আপডেট সময়ঃ ০৭:৪০:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ মার্চ ২০২২
  • / ৫০০ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় স্ত্রী, পুত্র ও কন্যা সন্তানকে হত্যার দায়ে বিচারিক (নিম্ন) আদালতের দেওয়া মো. আলমগীর হোসেনের মৃত্যুদ- বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। আজ সোমবার হাইকোর্টের বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত অবকাশকালীন বেঞ্চ এ রায় দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নির্মল কুমার দাস, শবনম মুশতারী ও তারিকুল ইসলাম হীরা। আসামিরপক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রীয় খরচে নিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান। নিজের পরকীয়ার জন্য স্ত্রী ও দুই সন্তানকে বর্বরোচিত ও অমানবিক পদ্ধতিতে হত্যা করেন তিনি, যা বিরল ঘটনা বলে এ রায়ে উল্লেখ করেছেন হাইকোর্ট। রায়ের পর্যবেক্ষণ আদালত বলেন, আসামি যেভাবে তার স্ত্রী, পুত্র ও কন্যাকে হত্যা করেছেন, তা সমাজ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। এমন অপরাধ নমনীয় দৃষ্টিতে দেখার অবকাশ নেই। এমন হত্যাকারী আদালত থেকে অনুকম্পা পেতে পারেন না। এরপর স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েকে হত্যার দায়ে হাইকোর্ট আসামি মো. আলমগীর হোসেনের মৃত্যুদ- বহাল রাখেন। মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০০৮ সালের ২২ জুন পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার পাঠাকাটা গ্রামে পল্লী চিকিৎসক আলমগীর তার স্ত্রী হাফিজা বেগম, ১১ বছরের ছেলে আশরাফুল ও তিন বছরের কন্যা জামিলাকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ান। পরে তাদের ঘুমন্ত অবস্থায় কুপিয়ে হত্যা করেন। এ ঘটনায় পরদিন হাফেজার ভাই মঠবাড়িয়া থানায় মামলা করেন। সেদিনই গ্রেপ্তার হন আলমগীর। পরে ২০১৫ সালের ৩০ এপ্রিল হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়ে বেরিয়ে যান তিনি। ওই মামলায় ২০১৬ সালের ১ আগস্ট পিরোজপুরের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত রায় দেন। রায়ে আলমগীরকে মৃত্যুদ- দেওয়া হয়। নিম্ন আদালতের রায় ঘোষণার আগের থেকেই আলমগীর পলাতক বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। আইনি বিধান অনুসারে নিম্ন আদালতের রায়ে কোনো আসামির মৃত্যুদ- হলে তা নিশ্চিতে হাইকোর্টের অনুমোদন লাগে। এটি ডেথ রেফারেন্স মামলা হিসেবে পরিচিত। এ অনুসারে নিম্ন আদালতের রায়সহ নথিপত্র হাইকোর্টে পাঠানো হয়, যা ডেথ রেফারেন্স মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়। এ ডেথ রেফারেন্সের ওপর শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট গতকাল সোমবার আসামি আলমগীরের মৃত্যুদ- বহাল রেখে রায় ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ বলেন, পরকীয়ার কারণে আলমগীর যেভাবে তার স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েকে খুন করেছেন, তা পশুর চেয়ে নিকৃষ্ট বলে রায়ে এসেছে। আলমগীর ব্যথা কমানোর কথা বলে স্ত্রীকে ঘুমের ইনজেকশন পুশ করেন ও দুই সন্তানকে খাবার স্যালাইনের মাধ্যমে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দেন। পরে স্ত্রী ও সন্তানদের দা দিয়ে কুপিয়ে তিনি হত্যা করেন। স্বীকারোক্তিতে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর ডাকাত এসে তিনজনকে কুপিয়ে হত্যা করেছে বলে প্রথমে ঘটনা সাজানোর চেষ্টা করেন আলমগীর। তার বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় হাইকোর্ট ওই পর্যবেক্ষণ দিয়ে তার মৃত্যুদ- বহাল রেখেছেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

​জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের-এর বাসভবনে কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে ‘জাতীয় ছাত্র সমাজ’ ​ঢাকা, ১২ অক্টোবর ২০২৬: জাতীয় পার্টির মাননীয় চেয়ারম্যান, গণমানুষের নেতা জননেতা আলহাজ্ব গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের এমপি-এর রাজধানীর উত্তরার বাসভবনে একদল দুষ্কৃতকারী কর্তৃক হামলা, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুরের ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে জাতীয় ছাত্র সমাজ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি। ​ কতিপয় দুষ্কৃতকারী ও অরাজকতা সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বাসভবনে সন্ত্রাসী হামলা ও ভাঙচুর চালায়। একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক দেশে কোনো রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতার বাসভবনে এ ধরনের হীন ও কাপুরুষোচিত হামলা দেশের রাজনৈতিক সহাবস্থান ও শান্তিশৃঙ্খলার ওপর এক চরম আঘাত। এটি স্পষ্টতই রাজনীতিকে সহিংস করার এক ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র। ​জাতীয় ছাত্র সমাজ স্পষ্টভাবে জানাতে চান, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা কোনো ধরনের সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে জাতীয় পার্টি ও এর অঙ্গ-সংগঠনসমূহের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে থামানো যাবে না। পরিচ্ছন্ন রাজনীতি ও জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে জিএম কাদের-এর নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি সবসময় আপসহীন ভূমিকা পালন করে আসছে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এক সাক্ষাৎকারে ​দাবি ও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন : ১. অবিলম্বে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে এই হামলায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সকল সন্ত্রাসী ও দুষ্কৃতকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে। ২. বিরোধী রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে। ​যদি অবিলম্বে এই সন্ত্রাসী হামলার পেছনে থাকা অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না হয়, তবে জাতীয় ছাত্র সমাজ দেশের ছাত্র-জনতাকে সাথে নিয়ে রাজপথে কঠোর ও তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে।

৬

পিরোজপুরে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে কুপিয়ে হত্যায় আলমগীরের মৃত্যুদন্ড বহাল

আপডেট সময়ঃ ০৭:৪০:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ মার্চ ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক :
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় স্ত্রী, পুত্র ও কন্যা সন্তানকে হত্যার দায়ে বিচারিক (নিম্ন) আদালতের দেওয়া মো. আলমগীর হোসেনের মৃত্যুদ- বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। আজ সোমবার হাইকোর্টের বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত অবকাশকালীন বেঞ্চ এ রায় দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নির্মল কুমার দাস, শবনম মুশতারী ও তারিকুল ইসলাম হীরা। আসামিরপক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রীয় খরচে নিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান। নিজের পরকীয়ার জন্য স্ত্রী ও দুই সন্তানকে বর্বরোচিত ও অমানবিক পদ্ধতিতে হত্যা করেন তিনি, যা বিরল ঘটনা বলে এ রায়ে উল্লেখ করেছেন হাইকোর্ট। রায়ের পর্যবেক্ষণ আদালত বলেন, আসামি যেভাবে তার স্ত্রী, পুত্র ও কন্যাকে হত্যা করেছেন, তা সমাজ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। এমন অপরাধ নমনীয় দৃষ্টিতে দেখার অবকাশ নেই। এমন হত্যাকারী আদালত থেকে অনুকম্পা পেতে পারেন না। এরপর স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েকে হত্যার দায়ে হাইকোর্ট আসামি মো. আলমগীর হোসেনের মৃত্যুদ- বহাল রাখেন। মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০০৮ সালের ২২ জুন পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার পাঠাকাটা গ্রামে পল্লী চিকিৎসক আলমগীর তার স্ত্রী হাফিজা বেগম, ১১ বছরের ছেলে আশরাফুল ও তিন বছরের কন্যা জামিলাকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ান। পরে তাদের ঘুমন্ত অবস্থায় কুপিয়ে হত্যা করেন। এ ঘটনায় পরদিন হাফেজার ভাই মঠবাড়িয়া থানায় মামলা করেন। সেদিনই গ্রেপ্তার হন আলমগীর। পরে ২০১৫ সালের ৩০ এপ্রিল হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়ে বেরিয়ে যান তিনি। ওই মামলায় ২০১৬ সালের ১ আগস্ট পিরোজপুরের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত রায় দেন। রায়ে আলমগীরকে মৃত্যুদ- দেওয়া হয়। নিম্ন আদালতের রায় ঘোষণার আগের থেকেই আলমগীর পলাতক বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। আইনি বিধান অনুসারে নিম্ন আদালতের রায়ে কোনো আসামির মৃত্যুদ- হলে তা নিশ্চিতে হাইকোর্টের অনুমোদন লাগে। এটি ডেথ রেফারেন্স মামলা হিসেবে পরিচিত। এ অনুসারে নিম্ন আদালতের রায়সহ নথিপত্র হাইকোর্টে পাঠানো হয়, যা ডেথ রেফারেন্স মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়। এ ডেথ রেফারেন্সের ওপর শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট গতকাল সোমবার আসামি আলমগীরের মৃত্যুদ- বহাল রেখে রায় ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ বলেন, পরকীয়ার কারণে আলমগীর যেভাবে তার স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েকে খুন করেছেন, তা পশুর চেয়ে নিকৃষ্ট বলে রায়ে এসেছে। আলমগীর ব্যথা কমানোর কথা বলে স্ত্রীকে ঘুমের ইনজেকশন পুশ করেন ও দুই সন্তানকে খাবার স্যালাইনের মাধ্যমে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দেন। পরে স্ত্রী ও সন্তানদের দা দিয়ে কুপিয়ে তিনি হত্যা করেন। স্বীকারোক্তিতে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর ডাকাত এসে তিনজনকে কুপিয়ে হত্যা করেছে বলে প্রথমে ঘটনা সাজানোর চেষ্টা করেন আলমগীর। তার বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় হাইকোর্ট ওই পর্যবেক্ষণ দিয়ে তার মৃত্যুদ- বহাল রেখেছেন।