যেকোনও মূল্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করতে হবে: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী
- আপডেট সময়ঃ ০১:২৫:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ২২ বার পড়া হয়েছে
যেকোনো মূল্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করতে হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং ডেঙ্গু সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির সভাপতি মীর শাহে আলম।
তিনি বলেন, শুধু নির্দিষ্ট সময়ে অভিযান চালিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।
সারা বছর নিয়মিতভাবে এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে তা ধ্বংস করতে হবে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়ক ও রাপা প্লাজা এলাকায় আজ শনিবার ‘দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’-এর কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা থেকে দেশব্যাপী তিন মাসব্যাপী এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনের পরপরই প্রতিমন্ত্রী মাঠপর্যায়ে চলমান কার্যক্রম পরিদর্শনে বের হন।
পরিদর্শনকালে মীর শাহে আলম ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়ক ও রাপা প্লাজা এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, সম্ভাব্য এডিস মশার প্রজননস্থল এবং আশপাশের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করেন।
তিনি সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে নেওয়া কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ নেন।
এর আগে প্রতিমন্ত্রী রাজধানীর সেচ ভবনে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিনের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে মীর শাহে আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দেশব্যাপী তিন মাসের বিশেষ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এই কর্মসূচির লক্ষ্য শুধু মশা নিধন নয়; পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতার মাধ্যমে এডিস মশার প্রজননস্থল সৃষ্টি বন্ধ করা এবং নাগরিকদের মধ্যে স্থায়ী সচেতনতা গড়ে তোলা।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে ধারাবাহিক সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। সরকারি সংস্থার পাশাপাশি ব্যক্তি, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাড়িঘর, নির্মাণাধীন ভবন, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য স্থাপনার আশপাশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। বিশেষ করে নির্মাণাধীন ভবনগুলো এডিস মশার প্রজননের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ স্থান। নির্মাণসামগ্রী, ড্রাম, বালতি, গর্ত বা অন্য কোনো স্থানে পানি জমে থাকলে সেখানে এডিস মশার লার্ভা জন্মাতে পারে। তাই ভবন মালিক, নির্মাতা ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়মিত এসব স্থান পরিষ্কার রাখতে হবে।
তিনি জানান, নগরীর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পরিধি ও সক্ষমতা বাড়াতেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
মীর শাহে আলম আরও বলেন, সংশ্লিষ্টদের সচেতন ও সতর্ক করার পরও কেউ দায়িত্বে অবহেলা করলে এবং এডিস মশার প্রজননের পরিবেশ সৃষ্টি করলে প্রচলিত আইনানুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অর্থদণ্ড এবং প্রয়োজনে কারাদণ্ডের মতো আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শাস্তির পরিবর্তে সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
পরিদর্শনকালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যসহ বিভিন্ন অংশীজন উপস্থিত ছিলেন।

























