ঢাকা, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ই-পেপার

ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত

দৈনিক আইন বার্তা
  • আপডেট সময়ঃ ০৩:৫৩:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৮ বার পড়া হয়েছে

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জের চান্দেরহাট সীমান্তে গতকাল শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত আরও এক বাংলাদেশি ভারতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনা চলছে।

এ ঘটনায় রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পীরগঞ্জের চান্দেরহাট সীমান্তের শূন্যরেখায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

নিহতরা হলেন- পীরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ ইন্দ্রইল গ্রামের আব্দুল ওয়াজেদের ছেলে আসাদুল হক এবং উত্তর ইন্দ্রইল গ্রামের আহেদ আলীর ছেলে মোস্তাকিম। আহত ব্যক্তি একই উপজেলার উত্তর ইন্দ্রইল গ্রামের মুনষা নারায়ণের ছেলে শ্রী উদা।

স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ভোররাতে পীরগঞ্জের চান্দেরহাট বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার ৩৩৩-এর কাছে ভারতের উত্তর দিনাজপুরের ৬৩ নম্বর চকশিবানন্দ বিএসএফ ক্যাম্পের একটি টহলদল তিন বাংলাদেশিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে তারা গুরুতর আহত হন। পরে বিএসএফ সদস্যরা আহত তিনজনকে উদ্ধার করে ভারতের কালিয়াগঞ্জ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আসাদুল হক ও মোস্তাকিমের মৃত্যু হয়। আহত শ্রী উদা বর্তমানে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শনিবার সকালে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ মহকুমা এলাকায় অনুপ্রবেশের অভিযোগে চকশিবানন্দ বিএসএফের সদস্যরা তিন বাংলাদেশিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে তিনজনই আহত হন। পরে তাদের কালিয়াগঞ্জ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুইজনের মৃত্যু হয়। অপর একজন এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহতদের মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ চলছে।

বৈরচুনা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. শাহাজাহান আলী বলেন, বিএসএফের গুলিতে নিহত দুইজনই আমাদের এলাকার বাসিন্দা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে মাধ্যমে তাদের মৃত্যুর খবর জানতে পেরেছি। বিষয়টি বিজিবিকে জানানো হলে তারা বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠকে বসেছে।

৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ আল মঈন বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে আমরা বিষয়টি জানতে পেরেছি। নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনা চলছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত

আপডেট সময়ঃ ০৩:৫৩:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জের চান্দেরহাট সীমান্তে গতকাল শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত আরও এক বাংলাদেশি ভারতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনা চলছে।

এ ঘটনায় রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পীরগঞ্জের চান্দেরহাট সীমান্তের শূন্যরেখায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

নিহতরা হলেন- পীরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ ইন্দ্রইল গ্রামের আব্দুল ওয়াজেদের ছেলে আসাদুল হক এবং উত্তর ইন্দ্রইল গ্রামের আহেদ আলীর ছেলে মোস্তাকিম। আহত ব্যক্তি একই উপজেলার উত্তর ইন্দ্রইল গ্রামের মুনষা নারায়ণের ছেলে শ্রী উদা।

স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ভোররাতে পীরগঞ্জের চান্দেরহাট বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার ৩৩৩-এর কাছে ভারতের উত্তর দিনাজপুরের ৬৩ নম্বর চকশিবানন্দ বিএসএফ ক্যাম্পের একটি টহলদল তিন বাংলাদেশিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে তারা গুরুতর আহত হন। পরে বিএসএফ সদস্যরা আহত তিনজনকে উদ্ধার করে ভারতের কালিয়াগঞ্জ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আসাদুল হক ও মোস্তাকিমের মৃত্যু হয়। আহত শ্রী উদা বর্তমানে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শনিবার সকালে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ মহকুমা এলাকায় অনুপ্রবেশের অভিযোগে চকশিবানন্দ বিএসএফের সদস্যরা তিন বাংলাদেশিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে তিনজনই আহত হন। পরে তাদের কালিয়াগঞ্জ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুইজনের মৃত্যু হয়। অপর একজন এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহতদের মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ চলছে।

বৈরচুনা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. শাহাজাহান আলী বলেন, বিএসএফের গুলিতে নিহত দুইজনই আমাদের এলাকার বাসিন্দা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে মাধ্যমে তাদের মৃত্যুর খবর জানতে পেরেছি। বিষয়টি বিজিবিকে জানানো হলে তারা বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠকে বসেছে।

৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ আল মঈন বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে আমরা বিষয়টি জানতে পেরেছি। নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনা চলছে।