আমিরাতে গ্রেপ্তার বেনজীরকে দেশে ফেরাতে নথি প্রস্তুত করছে দুদক
- আপডেট সময়ঃ ০৪:২৯:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
- / ২১ বার পড়া হয়েছে
সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্রেপ্তার সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটি জানিয়েছে, দুর্নীতিসহ বেনজীরের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর তথ্য-প্রমাণ সংবলিত নথি চূড়ান্ত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কূটনৈতিক চ্যানেলে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, মানিলন্ডারিং ও পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ মোট ছয়টি মামলা রয়েছে। এসব মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত একত্র করে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
দুর্নীতির মামলায় দুবাইয়ে আটক সাবেক আইজিপি বেনজীরদুর্নীতির মামলায় দুবাইয়ে আটক সাবেক আইজিপি বেনজীর
এদিকে আদালতের আদেশে বেনজীর আহমেদের নামে থাকা বিপুল সম্পদের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে জব্দ করা হয়েছে। রাজধানীর গুলশানের ১২৬ নম্বর সড়কে অবস্থিত একটি ভবনের দুটি ফ্লোরে থাকা চারটি ফ্ল্যাট গত বছরের ডিসেম্বরে ক্রোক করে দুদক। ফ্ল্যাটগুলোতে থাকা আসবাবপত্রও রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধানে বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের নামে ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও বান্দরবানসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৩৪৫ বিঘা জমি এবং বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য উঠে আসে। এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে থাকা তার একটি ফ্ল্যাটও জব্দ করা হয়েছে।
দুদকের ৬ মামলার আসামি বেনজীর, দেশে ফিরিয়ে আনা হবে যেভাবেদুদকের ৬ মামলার আসামি বেনজীর, দেশে ফিরিয়ে আনা হবে যেভাবে
তবে জব্দ করা সম্পদ থেকে এখনো পুরোপুরি আয় নিশ্চিত করতে পারেনি দুদক। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গুলশানের ওই ফ্ল্যাটগুলোর প্রতিটি ফ্লোরের সম্ভাব্য মাসিক ভাড়া প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা হলেও এখন পর্যন্ত সেগুলো ভাড়া দেওয়া সম্ভব হয়নি। একইভাবে রাজধানীর আদাবরে থাকা ছয়টি এবং বাড্ডায় থাকা দুটি ফ্ল্যাটের জন্যও এখনো রিসিভার নিয়োগ করা যায়নি।
অন্যদিকে, গোপালগঞ্জে বেনজীরের মালিকানাধীন সাভানা ইকো রিসোর্ট স্থানীয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। সেখান থেকে অর্জিত রাজস্ব নিয়মিতভাবে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
দুদকের উপ-পরিচালক আকতারুল ইসলাম জানিয়েছেন, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুতের কাজ চলছে। প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তা কূটনৈতিক চ্যানেলে পাঠানো হবে।
কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়, বেনজীর প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়, বেনজীর প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
এ বিষয়ে আইনজীবীরা বলছেন, বিদেশে অবস্থানরত কোনো পলাতক আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হলে অভিযোগের সমর্থনে নির্ভুল ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও আইনি প্রক্রিয়া জোরদার করতে হবে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহসিব হোসেন বলেন, বিদেশে অবস্থানরত আসামিকে প্রত্যর্পণের ক্ষেত্রে নথিপত্রের যথার্থতা ও আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা অপরিহার্য। অন্যথায় তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ জটিল হয়ে পড়তে পারে।























