সিলেটের জাফলং পর্যটন এলাকায় যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা: দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ পর্যটক, হুমকিতে পরিবেশ
- আপডেট সময়ঃ ০৮:০০:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
- / ৮ বার পড়া হয়েছে
মোঃ নিজাম উদ্দিন সিলেটঃ সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ৩ নং পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি ও ‘প্রকৃতির কন্যা’ হিসেবে পরিচিত জাফলং এখন ময়লা-আবর্জনা ও দুর্গন্ধে বিপর্যস্ত। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ও বিদেশ থেকে প্রতিদিন আগত পর্যটকরা এ অপূর্ব প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করতে এসে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এতে একদিকে যেমন পর্যটকদের স্বস্তি নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে হুমকির মুখে পড়ছে পরিবেশ ও পর্যটন খাত।
গত কয়েক বছরে জাফলংকে পর্যটকবান্ধব ও দৃষ্টিনন্দন করতে সরকারি-বেসরকারি নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্মিত হয়েছে সরকারি ডাকবাংলো, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) অধীনস্থ সীমান্ত সম্মেলন কেন্দ্র, বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের মোটেলসহ একাধিক স্থাপনা। পাশাপাশি গড়ে উঠেছে ব্যক্তিমালিকানাধীন আবাসিক হোটেল ও রেস্তোরাঁ।
তবে এসব উন্নয়নের মধ্যেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা প্রকট আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে বিজিবি ক্যাম্প ও আশপাশের হোটেল-রেস্তোরাঁর ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে না ফেলে যত্রতত্র ফেলার কারণে পুরো এলাকায় নোংরা পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। অনেক জায়গায় উন্মুক্ত স্থানে শৌচাগারের বর্জ্য ফেলার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পর্যটন কেন্দ্রের প্রবেশদ্বার, মার্কেট এলাকা, রেস্টুরেন্টের পেছন, মূল সিঁড়ির দুই পাশ, সিঁড়ির নিচের দোকান এবং জিরো পয়েন্টসহ বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। এতে এলাকায় তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে।
অবস্থা আরও ভয়াবহ রূপ নেয় রাতের বেলায়। অভিযোগ রয়েছে, রাতের আঁধারে কিছু টয়লেটের বর্জ্য ও আবর্জনা উন্মুক্ত স্থানে ফেলা হয়, বিশেষ করে মার্কেটের পূর্ব পাশে। এতে দুর্গন্ধে আশপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে।
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থেকে আসা পর্যটক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, জাফলংয়ের পাহাড় আর নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসেছিলাম। কিন্তু চারদিকে ময়লা আর দুর্গন্ধে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নেওয়াই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে জাফলংয়ের সুনাম নষ্ট হয়ে যাবে।
পর্যটন কেন্দ্র ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা জানান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা না থাকায় সংকট দিন দিন বাড়ছে। তারা বলেন, ব্যবসায়ীদের বারবার সতর্ক করা হলেও স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় সমস্যা সমাধান সম্ভব হচ্ছে না। দ্রুত কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী বলেন, জাফলংয়ের পরিবেশ ও সৌন্দর্য রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। যত্রতত্র ময়লা ফেলা ও বর্জ্য নিষ্কাশনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পরিবেশ দূষণকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং একটি স্থায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।



















