টাইব্রেকারে নেদারল্যান্ডসকে পরাজিত করে শেষ ১৬’তে মরক্কো
- আপডেট সময়ঃ ১০:৪৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
- / ১১ বার পড়া হয়েছে
পেনাল্টি শুট আউটে নেদারল্যান্ডসকে পরাজিত শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে মরক্কো। মন্টিয়ারিতে নাটকীয় ম্যাচটি নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ে ১-১ গোলে অমীমাংসিত ছিল।
গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনো ক্রিসেনসিও সামারভিলের গুরুত্বপূর্ণ পেনাল্টি রুখে দিয়ে মরক্কোকে জয় উপহার দিয়েছেন। এরপর স্ট্রাইকার ইসমায়েল সাইবারি স্পট কিক থেকে জয়সূচক গোলটি করলে ৩-২ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত হয় মরক্কোর।
এই জয়ে আগামী শনিবার হিউস্টোনে শেষ ষোলোতে সহ-আয়োজক কানাডার মুখোমুখি হবে মরক্কো।
স্টপেজ টাইমের প্রথম মিনিটে ইসা ডিওপের গোলে নাটকীয় ভাবে সমতায় ফিরে মরক্কো। তার আগ পর্যন্ত নেদারল্যান্ডস জয়ের একেবারে কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে কোডি গাকপোর গোলে এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। কিন্তু ইনজুরি টাইমে চেমসডাইন তালবির ক্রসে ফাঁকায় দাঁড়ানো ডিওপের হেডে মরক্কো ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যায়।
কাউন্টার এ্যাটাকে কাল মরক্কো বেশ বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিল। পুরো ম্যাচে অবশ্য শারীরিক লড়াইয়ে বেশ কয়েকবার উভয় দলের খেলোয়াড়কে মেতে উঠতে দেখা গেছে। যে কারণে ব্রাজিলিয়ান রেফারি উইল্টন সামপাইওকে বেশ ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হয়েছে।
২০ মিনিটে এ্যাটলাস লায়ন্সরা লিড প্রায় নিয়েই ফেলেছিল। আশরাফর হাকিমির কর্নার থেকে নেইল আল-আয়নায়ির কোনোমতে রক্ষা নেদারল্যান্ডসের গোলরক্ষক বার্ট ভারব্রাগেন। পরের মিনিটেই হাকিমির শট কর্নারের মাধ্যমে রক্ষা করেন ভারব্রাগেন। প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে ইয়ান ফল ফন হেকেকে মুখে কনুই দিয়ে আঘাত করা সত্ত্বেও সাইবারি লাল কার্ডের ঝুঁকি থেকে ভাগ্যের জোরে বেঁচে যান। ডাচ আক্রমণভাগ একের পর এক আক্রমণ করলেও গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি। ৪৪ মিনিটে টটেনহ্যামের মিকি ফন ডি ভেনের শট দারুণভাবে রক্ষা করেন বুনো। প্রথমার্ধে এটাই ছিল ডাচদের একমাত্র ভালো সুযোগ।
প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে সাইবারি ডাচ গোলমুখে ভেসে আসা একটি ক্রসে ঠিকমতো সংযোগ ঘটাতে পারেননি।
নাটকীয়তা এরপরও থামেনি। দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই আক্রমণ পাল্টা আক্রমণ একে অপরকে ব্যস্ত করে তোলে। দ্বিতীয় হাইড্রেশন বিরতির পর ডাচ কোচ রোনাল্ড কোম্যান বেশ কিছু পরিবর্তন আনেন। ফরোয়ার্ড ওট উইগর্স্টকে মাঠে নামানোর পর ম্যাচের মোড় যেন নেদারল্যান্ডসের দিকে ঘুরে যায়। উইগর্স্ট নামার সঙ্গে সঙ্গেই ম্যাচে প্রভাব ফেলেন। তার একটি লম্বা বল ফ্লিক সামারভিলের ক্রসে গাকপো বল জালে জড়ালে ডেডলক ভাঙে নেদারল্যান্ডস।
ভার্জিল ফন ডাইকের নেতৃত্বে দারুণ সংগঠিত ডাচ রক্ষণ দেখে মনে হচ্ছিল নেদারল্যান্ডস জয়ের পথেই রয়েছে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ডিওপের হেডে গোল হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
৯৬তম মিনিটে সুফিয়ান রাহিমির একক প্রচেষ্টায় মরক্কো প্রায় এগিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তার শট অবিশ্বাস্য এক সেভে রুখে দেন ভারব্রাগেন।
শেষ পর্যন্ত ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। মরক্কো প্রথম শটেই ব্যর্থ হয়। এল-আয়নায়ির শট ক্রসবারে লাগে। তবু উত্তর আফ্রিকার দলটি ঘুরে দাঁড়িয়ে শেষ পর্যন্ত জয় তুলে নেয়। নেদারল্যান্ডসের হয়ে পেনাল্টির সুযোগ মিস করেছেন জাস্টিন ক্লুইভার্ট, কুইন্টেন টিম্বার ও সামারভিলে। আশরাফ হাকিমি তার সুযোগটি হাতছাড়া করলেও শেষ পর্যন্ত সাইবারির গোলে মরক্কোর জয় নিশ্চিত হয়।





















