ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬ | ই-পেপার

৩৫ বছর পর আবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট, ভোটগ্রহণ হবে প্রকাশ্যে

দৈনিক আইন বার্তা
  • আপডেট সময়ঃ ১১:১৬:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১০ বার পড়া হয়েছে

সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের পর দ্বিতীয়বার রাষ্ট্রপতি পদে ভোটাভুটির দিকে যাচ্ছে দেশ। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী ঘোষণা করায় ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হচ্ছে। বিএনপির একক প্রার্থী থাকলে তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করা হতো। ১৯৯১ সালের পর এই প্রথম বিরোধী দল প্রার্থী দেওয়ায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বিএনপি রোববার রাষ্ট্রপতি পদে দুটি ফরম সংগ্রহ করেছে। তবে দলটি চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি। গতকাল নির্বাচন ভবনে এ বিষয়ে অনানুষ্ঠানিক একটি বৈঠকও হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

১৯৯১ সালে বিরোধী দল থেকে প্রার্থী দেওয়ার নজির রয়েছে। তখন বিরোধী দলে থেকে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রপতি পদে বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরীকে মনোনয়ন দিয়েছিল। সেই নির্বাচনে তিনি বিএনপি প্রার্থী আব্দুর রহমান বিশ্বাসের কাছে ৮০ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। এরপর থেকে প্রতিবারই ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে আসছেন। এটাই রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। এবার একাধিক প্রার্থী হলে তফসিল অনুযায়ী, ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হবে। ওই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।

২৪ জুলাই মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগের পর বিগত কয়েকটির নির্বাচনের মতো এবারও সরকার দলের প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হবেন-এমনটা মনে করেছিল রাজনৈতিক মহল। ইসির প্রস্তুতিও তেমনটি ছিল। কিন্তু নিশ্চিত পরাজয় জেনেও গতকাল প্রার্থী ঘোষণা করে জামায়াত জোট। জোট নেতাদের আজ রাষ্ট্রপতি পদে ফরম সংগ্রহ করার কথা রয়েছে। ইসি থেকে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য বিএনপির পক্ষে গতকাল দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দেওয়া শুরু হয়েছে। বিএনপির প্রতিনিধিদল দুটি মনোনয়নপত্র নিয়ে গেছেন। আর কেউ বা কোনো দল মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেনি। বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, একজনের জন্য দুটি ফরম সংগ্রহ করা হয়েছে। কোনো কারণে একটি ফরম পূরণে ভুল হলে সতর্কতা হিসাবে আরেকটি ফরম নেওয়া হয়েছে। তবে কারও নামে তা সংগ্রহ করা হয়নি। তফসিল অনুযায়ী, বৃহস্পতিবারের মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দেবে দলটি।

এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে রোববার রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের বাসভবনে ১১ দলীয় জোটের বৈঠক হয়। এতে জোটের প্রার্থী হিসাবে এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ বীরবিক্রমের নাম চূড়ান্ত করা হয়। রাষ্ট্রপতি পদে ১১ দলের প্রার্থী হয়ে কর্নেল অলি আহমদ বলেন, ‘জাতির সঙ্গে বেইমানি করব না।’ তিনি বলেন, আমরা আমাদের জায়গা থেকে এই জাতির সঙ্গে কখনো বেইমানি করব না। আমরা জনগণের পাশে সব সময় তাদের স্বার্থ রক্ষার জন্য দাঁড়াব।’ প্রার্থী বাছাইয়ের বিষয়ে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জাতির প্রতি আমাদের কমিটমেন্টের জায়গা থেকেই আমরা দেশের সুপরিচিত গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে বাছাই করেছি।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা ছিল, নির্বাচনের পর জুলাই সনদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। গণভোটে জনগণ যে ম্যান্ডেট দিয়েছে-প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ জুলাই সনদের পক্ষে রায় দিয়েছে। তার ভিত্তিতে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হবে, সংবিধান সংস্কার পরিষদ হবে এবং এর মাধ্যমে সংস্কারকৃত সংবিধানের অধীনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করা হবে। এটাই ছিল আমাদের প্রত্যাশা। কিন্তু আমরা দেখেছি, এই সরকার গণভোটের গণরায়কে অস্বীকার করেছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগই তারা নেয়নি। সংস্কার পরিষদের শপথ নেয়নি, অধিবেশন ডাকা হয়নি। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করা হচ্ছে; নির্বাচন কমিশনকেও দলীয়করণ করা হচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ফলাফল আমরা জানি, তারপরও প্রার্থী দেওয়ার কারণ হলো এটা প্রতিবাদ। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করলে আমরা সরকারি দল বিরোধী দল ঐক্যমতের ভিত্তিতে সর্বজন গ্রহণযোগ্য একজন ব্যক্তিকে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদের জন্য বাছাই করতে পারতাম। এদিকে ইসি সূত্র বলছে, এত দিন ধারণা ছিল রাষ্ট্রপতি পদে ভোট গ্রহণ পর্যন্ত অপেক্ষা করা লাগবে না। দলীয় প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকায় আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ক্ষমতাসীন দল মনোনীত প্রার্থী বিজয়ী হবে। কিন্তু বিরোধী দল প্রার্থী দেওয়ায় রাষ্ট্রপতি পদে ভোট নিয়ে নতুন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এখন ভোটের প্রস্তুতি শুরু করেছে ইসি।

জানা গেছে, সেখানে ভোট কক্ষ প্রস্তুত, ব্যালট বাক্স তৈরি, ব্যালট পেপার প্রস্তুতসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে একাধিক প্রার্থী থাকলে ১৮ আগস্টই ব্যালট পেপার ছাপাবে ইসি। ভোটার মাত্র ৩৪৯ জন হওয়ায় ব্যালট পেপার ছাপাতে বেশি সময় লাগবে না। আইন অনুযায়ী, সংসদ কক্ষই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট কক্ষ। নির্বাচনে সহায়তার জন্য নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা ছাড়াও সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের সহায়তা নেওয়া হবে। বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে নতুন পরিস্থিতি তৈরি হবে বলে আমরা ধারণা করছি। সেটার প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য আমরা বৈঠক করেছি। দ্রুত যাতে আমাদের কাজ করা যায় সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

আইন অনুযায়ী, সংসদ অধিবেশন না থাকলে স্পিকারের পরামর্শে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হলে বৈঠক গ্রহণের জন্য বৈঠক আহ্বান করতে পারেন সিইসি। সিইসি এরই মধ্যে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে বৈঠক করে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছে। সেই অনুযায়ী তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে।

বর্তমান জাতীয় সংসদে ৩৪৯ জন সংসদ-সদস্য রয়েছেন। এর মধ্যে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের সদস্য ২৫০ জন। জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের ৯০ জন। ৮ জন স্বতন্ত্র এবং ইসলামী আন্দোলনের ১ জন এমপি রয়েছেন। রাষ্ট্রপতি পদে বিজয়ের জন্য ১৭৬ ভোট প্রয়োজন। সংসদের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা বিএনপি প্রার্থীই বিজয়ী হবেন-এটাই মোটামুটি নিশ্চিত।

রাষ্ট্রতির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনায় ছয় কমিটি : নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান পরিচালনায় ছয়টি কমিটি গঠন করেছে সরকার। রোববার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করা হয়। এতে বলা হয়, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষণা করেছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি প্রাপ্তির পরিপ্রেক্ষিতে নির্ধারিত দিন, তারিখ, সময় ও স্থানে রাষ্ট্রপতির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে। কমিটিগুলোর মধ্যে রয়েছে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব সমন্বয় ও সংস্কার ফারাহ শাম্মীর নেতৃত্বে সমন্বয় কমিটি, প্রশাসন ও বিধি অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. শামীম সোহেলের নেতৃত্বে ডকুমেন্টেশন ও রেকর্ড সংরক্ষণ কমিটি এবং অতিথি তালিকা প্রণয়ন ও আমন্ত্রণপত্র মুদ্রণ কমিটি, সমন্বয় অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ খালেদ হাসানের নেতৃত্বে আমন্ত্রণপত্র বিতরণ ও প্রাপ্তি যাচাই কমিটি, কমিটি ও অর্থনৈতিক অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে আসন ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং আইন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ইয়াসমিন বেগমের নেতৃত্বে অভ্যর্থনা কমিটি। কমিটিগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারী অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে। চিঠি পাওয়ার পর কমিটি দ্রুত সভা আহ্বান করে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করবে। ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

৩৫ বছর পর আবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট, ভোটগ্রহণ হবে প্রকাশ্যে

আপডেট সময়ঃ ১১:১৬:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের পর দ্বিতীয়বার রাষ্ট্রপতি পদে ভোটাভুটির দিকে যাচ্ছে দেশ। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী ঘোষণা করায় ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হচ্ছে। বিএনপির একক প্রার্থী থাকলে তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করা হতো। ১৯৯১ সালের পর এই প্রথম বিরোধী দল প্রার্থী দেওয়ায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বিএনপি রোববার রাষ্ট্রপতি পদে দুটি ফরম সংগ্রহ করেছে। তবে দলটি চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি। গতকাল নির্বাচন ভবনে এ বিষয়ে অনানুষ্ঠানিক একটি বৈঠকও হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

১৯৯১ সালে বিরোধী দল থেকে প্রার্থী দেওয়ার নজির রয়েছে। তখন বিরোধী দলে থেকে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রপতি পদে বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরীকে মনোনয়ন দিয়েছিল। সেই নির্বাচনে তিনি বিএনপি প্রার্থী আব্দুর রহমান বিশ্বাসের কাছে ৮০ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। এরপর থেকে প্রতিবারই ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে আসছেন। এটাই রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। এবার একাধিক প্রার্থী হলে তফসিল অনুযায়ী, ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হবে। ওই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।

২৪ জুলাই মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগের পর বিগত কয়েকটির নির্বাচনের মতো এবারও সরকার দলের প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হবেন-এমনটা মনে করেছিল রাজনৈতিক মহল। ইসির প্রস্তুতিও তেমনটি ছিল। কিন্তু নিশ্চিত পরাজয় জেনেও গতকাল প্রার্থী ঘোষণা করে জামায়াত জোট। জোট নেতাদের আজ রাষ্ট্রপতি পদে ফরম সংগ্রহ করার কথা রয়েছে। ইসি থেকে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য বিএনপির পক্ষে গতকাল দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দেওয়া শুরু হয়েছে। বিএনপির প্রতিনিধিদল দুটি মনোনয়নপত্র নিয়ে গেছেন। আর কেউ বা কোনো দল মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেনি। বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, একজনের জন্য দুটি ফরম সংগ্রহ করা হয়েছে। কোনো কারণে একটি ফরম পূরণে ভুল হলে সতর্কতা হিসাবে আরেকটি ফরম নেওয়া হয়েছে। তবে কারও নামে তা সংগ্রহ করা হয়নি। তফসিল অনুযায়ী, বৃহস্পতিবারের মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দেবে দলটি।

এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে রোববার রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের বাসভবনে ১১ দলীয় জোটের বৈঠক হয়। এতে জোটের প্রার্থী হিসাবে এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ বীরবিক্রমের নাম চূড়ান্ত করা হয়। রাষ্ট্রপতি পদে ১১ দলের প্রার্থী হয়ে কর্নেল অলি আহমদ বলেন, ‘জাতির সঙ্গে বেইমানি করব না।’ তিনি বলেন, আমরা আমাদের জায়গা থেকে এই জাতির সঙ্গে কখনো বেইমানি করব না। আমরা জনগণের পাশে সব সময় তাদের স্বার্থ রক্ষার জন্য দাঁড়াব।’ প্রার্থী বাছাইয়ের বিষয়ে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জাতির প্রতি আমাদের কমিটমেন্টের জায়গা থেকেই আমরা দেশের সুপরিচিত গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে বাছাই করেছি।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা ছিল, নির্বাচনের পর জুলাই সনদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। গণভোটে জনগণ যে ম্যান্ডেট দিয়েছে-প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ জুলাই সনদের পক্ষে রায় দিয়েছে। তার ভিত্তিতে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হবে, সংবিধান সংস্কার পরিষদ হবে এবং এর মাধ্যমে সংস্কারকৃত সংবিধানের অধীনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করা হবে। এটাই ছিল আমাদের প্রত্যাশা। কিন্তু আমরা দেখেছি, এই সরকার গণভোটের গণরায়কে অস্বীকার করেছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগই তারা নেয়নি। সংস্কার পরিষদের শপথ নেয়নি, অধিবেশন ডাকা হয়নি। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করা হচ্ছে; নির্বাচন কমিশনকেও দলীয়করণ করা হচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ফলাফল আমরা জানি, তারপরও প্রার্থী দেওয়ার কারণ হলো এটা প্রতিবাদ। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করলে আমরা সরকারি দল বিরোধী দল ঐক্যমতের ভিত্তিতে সর্বজন গ্রহণযোগ্য একজন ব্যক্তিকে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদের জন্য বাছাই করতে পারতাম। এদিকে ইসি সূত্র বলছে, এত দিন ধারণা ছিল রাষ্ট্রপতি পদে ভোট গ্রহণ পর্যন্ত অপেক্ষা করা লাগবে না। দলীয় প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকায় আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ক্ষমতাসীন দল মনোনীত প্রার্থী বিজয়ী হবে। কিন্তু বিরোধী দল প্রার্থী দেওয়ায় রাষ্ট্রপতি পদে ভোট নিয়ে নতুন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এখন ভোটের প্রস্তুতি শুরু করেছে ইসি।

জানা গেছে, সেখানে ভোট কক্ষ প্রস্তুত, ব্যালট বাক্স তৈরি, ব্যালট পেপার প্রস্তুতসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে একাধিক প্রার্থী থাকলে ১৮ আগস্টই ব্যালট পেপার ছাপাবে ইসি। ভোটার মাত্র ৩৪৯ জন হওয়ায় ব্যালট পেপার ছাপাতে বেশি সময় লাগবে না। আইন অনুযায়ী, সংসদ কক্ষই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট কক্ষ। নির্বাচনে সহায়তার জন্য নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা ছাড়াও সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের সহায়তা নেওয়া হবে। বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে নতুন পরিস্থিতি তৈরি হবে বলে আমরা ধারণা করছি। সেটার প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য আমরা বৈঠক করেছি। দ্রুত যাতে আমাদের কাজ করা যায় সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

আইন অনুযায়ী, সংসদ অধিবেশন না থাকলে স্পিকারের পরামর্শে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হলে বৈঠক গ্রহণের জন্য বৈঠক আহ্বান করতে পারেন সিইসি। সিইসি এরই মধ্যে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে বৈঠক করে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছে। সেই অনুযায়ী তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে।

বর্তমান জাতীয় সংসদে ৩৪৯ জন সংসদ-সদস্য রয়েছেন। এর মধ্যে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের সদস্য ২৫০ জন। জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের ৯০ জন। ৮ জন স্বতন্ত্র এবং ইসলামী আন্দোলনের ১ জন এমপি রয়েছেন। রাষ্ট্রপতি পদে বিজয়ের জন্য ১৭৬ ভোট প্রয়োজন। সংসদের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা বিএনপি প্রার্থীই বিজয়ী হবেন-এটাই মোটামুটি নিশ্চিত।

রাষ্ট্রতির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনায় ছয় কমিটি : নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান পরিচালনায় ছয়টি কমিটি গঠন করেছে সরকার। রোববার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করা হয়। এতে বলা হয়, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষণা করেছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি প্রাপ্তির পরিপ্রেক্ষিতে নির্ধারিত দিন, তারিখ, সময় ও স্থানে রাষ্ট্রপতির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে। কমিটিগুলোর মধ্যে রয়েছে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব সমন্বয় ও সংস্কার ফারাহ শাম্মীর নেতৃত্বে সমন্বয় কমিটি, প্রশাসন ও বিধি অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. শামীম সোহেলের নেতৃত্বে ডকুমেন্টেশন ও রেকর্ড সংরক্ষণ কমিটি এবং অতিথি তালিকা প্রণয়ন ও আমন্ত্রণপত্র মুদ্রণ কমিটি, সমন্বয় অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ খালেদ হাসানের নেতৃত্বে আমন্ত্রণপত্র বিতরণ ও প্রাপ্তি যাচাই কমিটি, কমিটি ও অর্থনৈতিক অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে আসন ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং আইন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ইয়াসমিন বেগমের নেতৃত্বে অভ্যর্থনা কমিটি। কমিটিগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারী অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে। চিঠি পাওয়ার পর কমিটি দ্রুত সভা আহ্বান করে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করবে। ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে।