ঢাকা, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬ | ই-পেপার

রাবিপ্রবির প্রকল্প পরিচালক গফুরের পদত্যাগের দাবিতে ঘৃণা মঞ্চের উদ্বোধন

দৈনিক আইন বার্তা
  • আপডেট সময়ঃ ১২:৪২:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৫৫ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবিপ্রবি) প্রকল্প পরিচালক আবদুল গফুরের বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, জবাবদিহি এবং তাঁর পদত্যাগের দাবিতে প্রতিবাদ কর্মসূচি ও ঘৃনা মঞ্চের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) ১১ টায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দপ্তর প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। উপস্থিত শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংবাদিক, সচেতন নাগরিক ও শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানানোর পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখনো দৃশ্যমান কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে না পারায় প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

এরপর শিক্ষার্থীরা প্রতীকীভাবে ‘গফুর’ লেখা চেয়ারে স্মারক অর্পণ করেন। পরবর্তী পর্যায়ে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ সংক্রান্ত ২০ লক্ষ টাকা লেনদেনের বিষয়ে অডিও-ভিডিওতে উপস্থাপিত বক্তব্য মাইকে প্রচার করা হয়।

কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়।

শিক্ষার্থীরা জানান, এই আন্দোলন হঠাৎ করে শুরু হয়নি। গত ২৮ জুলাই সাধারণ শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রকল্প পরিচালক আবদুল গফুরের বিরুদ্ধে উত্থাপিত নিয়োগসংক্রান্ত অসঙ্গতি, শিক্ষাগত যোগ্যতা, আর্থিক লেনদেন, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক আচরণ সংক্রান্ত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃশ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা দাবি করেন। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয় এবং একাধিকবার আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।

শিক্ষার্থীদের বক্তব্য অনুযায়ী, আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনো দৃশ্যমান প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত না আসায় তাদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২তম রিজেন্ট বোর্ড সভায় তদন্তাধীন আবদুল গফুরের উপস্থিতি/প্রবেশের বিষয় নিয়েও শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন তোলেন এবং এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছ থেকে স্পষ্ট ও নথিভিত্তিক ব্যাখ্যা দাবি করেন।
পরিষ্কার ভাবে আমরা তাঁর ২০ লক্ষ টাকা লেনদেনের ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দিয়েছি।তবুও প্রশাসন কেনো
নিরব তা আমাদের বোধগম্য নয়।কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, বর্তমানে আবদুল গফুরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এই অবস্থায় তদন্তকে নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত রাখতে তাঁকে সকল প্রশাসনিক ও আর্থিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা এবং প্রকল্প পরিচালক আবদুল গফুরের পদত্যাগের দাবি জানানো হয়।

শিক্ষার্থীরা বিশেষভাবে তাঁর নিয়োগের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার পুনঃযাচাই, শিক্ষাগত সনদ ও পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রতিবেদনের তথ্যগত অসঙ্গতি নিরসন, ঠিকাদারের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের স্বাধীন যাচাই, আর্থিক ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনার নিরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট অডিও-ভিডিও উপকরণ অনুযায়ী শাস্তির দাবি জানান।

এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে ২০ লক্ষ টাকা লেনদেনের মাধ্যমে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ সংক্রান্ত অফিস আদেশ আনার বিষয়ে অডিও-ভিডিওতে উপস্থাপিত বক্তব্যের প্রাপক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

শিক্ষার্থীরা আরও দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের সঙ্গে আবদুল গফুরের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা হোক।

কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ হবে যোগ্যতার ভিত্তিতে, প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে বিধি অনুযায়ী, সরকারি অর্থব্যয় হবে জবাবদিহির সঙ্গে এবং প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে। তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়; এটি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও জনগণের প্রতিষ্ঠান।

তৎকালীন উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আরেফ আলী রহমান তাঁর দায়িত্বকালীন নিয়োগের বিষয়ে ব্যাখ্যা প্রদান করলেও শিক্ষার্থী ও জনমনে প্রশ্ন থেকে যাওয়ায় বর্তমান প্রশাসনের কাছে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার স্বার্থে পুনরায় নথিভিত্তিক ব্যাখ্যা দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
রাবিপ্রবি সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ

শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবিসমূহ:

১. প্রকল্প পরিচালক আবদুল গফুরের পদত্যাগ।

২. ২০ লক্ষ টাকা লেনদেনের মাধ্যমে পিডি নিয়োগসংক্রান্ত অফিস আদেশ আনার বিষয়ে উপস্থাপিত বক্তব্যের নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা।

৩. দুইটি তৃতীয় বিভাগ থাকা অবস্থায় সরকারি পরিচালক পদে নিয়োগের বৈধতা পুনঃযাচাই এবং বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা।

৪. তদন্ত চলাকালীন সময়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ সীমিত/নিষিদ্ধ করার বিষয়ে যথাযথ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত।

৫. তদন্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সকল প্রশাসনিক ও আর্থিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা।

৬. রিজেন্ট বোর্ডে প্রবেশ এবং তদন্তে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনিক ব্যাখ্যা প্রদান।

৭. ঠিকাদারের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন স্বাধীনভাবে যাচাই।

৮. পরিবেশগত অনুমোদন ও পাহাড় কাটাসংক্রান্ত ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার দায় নির্ধারণ।

৯. পূর্ববর্তী নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে বর্তমান প্রশাসনের পক্ষ থেকে নথিভিত্তিক পুনঃব্যাখ্যা।

শিক্ষার্থীরা বলেন, তাদের আন্দোলন কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ বা প্রতিহিংসার অংশ নয়; বরং বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, সুশাসন ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার দাবি থেকেই এ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

তারা আরও ঘোষণা করেন, আজ বিকাল ৪টার মধ্যে প্রকল্প পরিচালক আবদুল গফুর পদত্যাগ না করলে বিকাল ৪টা ০১ মিনিট থেকে পূর্বঘোষিত অনশন কর্মসূচি শুরু করা হবে। কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালনার কথা জানিয়ে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দ্রুত, দৃশ্যমান ও ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্তের আহ্বান জানান।

কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ স্লোগান দেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে সত্য, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির পক্ষে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিকদের একাত্ম হওয়ার আহ্বান জানান।

“ব্যক্তির চেয়ে প্রতিষ্ঠান বড়, পদ-পদবির চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থ বড়।”

“দুর্নীতি

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

রাবিপ্রবির প্রকল্প পরিচালক গফুরের পদত্যাগের দাবিতে ঘৃণা মঞ্চের উদ্বোধন

আপডেট সময়ঃ ১২:৪২:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবিপ্রবি) প্রকল্প পরিচালক আবদুল গফুরের বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, জবাবদিহি এবং তাঁর পদত্যাগের দাবিতে প্রতিবাদ কর্মসূচি ও ঘৃনা মঞ্চের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) ১১ টায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দপ্তর প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। উপস্থিত শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংবাদিক, সচেতন নাগরিক ও শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানানোর পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখনো দৃশ্যমান কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে না পারায় প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

এরপর শিক্ষার্থীরা প্রতীকীভাবে ‘গফুর’ লেখা চেয়ারে স্মারক অর্পণ করেন। পরবর্তী পর্যায়ে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ সংক্রান্ত ২০ লক্ষ টাকা লেনদেনের বিষয়ে অডিও-ভিডিওতে উপস্থাপিত বক্তব্য মাইকে প্রচার করা হয়।

কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়।

শিক্ষার্থীরা জানান, এই আন্দোলন হঠাৎ করে শুরু হয়নি। গত ২৮ জুলাই সাধারণ শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রকল্প পরিচালক আবদুল গফুরের বিরুদ্ধে উত্থাপিত নিয়োগসংক্রান্ত অসঙ্গতি, শিক্ষাগত যোগ্যতা, আর্থিক লেনদেন, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক আচরণ সংক্রান্ত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃশ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা দাবি করেন। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয় এবং একাধিকবার আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।

শিক্ষার্থীদের বক্তব্য অনুযায়ী, আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনো দৃশ্যমান প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত না আসায় তাদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২তম রিজেন্ট বোর্ড সভায় তদন্তাধীন আবদুল গফুরের উপস্থিতি/প্রবেশের বিষয় নিয়েও শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন তোলেন এবং এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছ থেকে স্পষ্ট ও নথিভিত্তিক ব্যাখ্যা দাবি করেন।
পরিষ্কার ভাবে আমরা তাঁর ২০ লক্ষ টাকা লেনদেনের ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দিয়েছি।তবুও প্রশাসন কেনো
নিরব তা আমাদের বোধগম্য নয়।কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, বর্তমানে আবদুল গফুরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এই অবস্থায় তদন্তকে নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত রাখতে তাঁকে সকল প্রশাসনিক ও আর্থিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা এবং প্রকল্প পরিচালক আবদুল গফুরের পদত্যাগের দাবি জানানো হয়।

শিক্ষার্থীরা বিশেষভাবে তাঁর নিয়োগের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার পুনঃযাচাই, শিক্ষাগত সনদ ও পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রতিবেদনের তথ্যগত অসঙ্গতি নিরসন, ঠিকাদারের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের স্বাধীন যাচাই, আর্থিক ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনার নিরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট অডিও-ভিডিও উপকরণ অনুযায়ী শাস্তির দাবি জানান।

এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে ২০ লক্ষ টাকা লেনদেনের মাধ্যমে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ সংক্রান্ত অফিস আদেশ আনার বিষয়ে অডিও-ভিডিওতে উপস্থাপিত বক্তব্যের প্রাপক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

শিক্ষার্থীরা আরও দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের সঙ্গে আবদুল গফুরের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা হোক।

কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ হবে যোগ্যতার ভিত্তিতে, প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে বিধি অনুযায়ী, সরকারি অর্থব্যয় হবে জবাবদিহির সঙ্গে এবং প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে। তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়; এটি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও জনগণের প্রতিষ্ঠান।

তৎকালীন উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আরেফ আলী রহমান তাঁর দায়িত্বকালীন নিয়োগের বিষয়ে ব্যাখ্যা প্রদান করলেও শিক্ষার্থী ও জনমনে প্রশ্ন থেকে যাওয়ায় বর্তমান প্রশাসনের কাছে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার স্বার্থে পুনরায় নথিভিত্তিক ব্যাখ্যা দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
রাবিপ্রবি সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ

শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবিসমূহ:

১. প্রকল্প পরিচালক আবদুল গফুরের পদত্যাগ।

২. ২০ লক্ষ টাকা লেনদেনের মাধ্যমে পিডি নিয়োগসংক্রান্ত অফিস আদেশ আনার বিষয়ে উপস্থাপিত বক্তব্যের নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা।

৩. দুইটি তৃতীয় বিভাগ থাকা অবস্থায় সরকারি পরিচালক পদে নিয়োগের বৈধতা পুনঃযাচাই এবং বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা।

৪. তদন্ত চলাকালীন সময়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ সীমিত/নিষিদ্ধ করার বিষয়ে যথাযথ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত।

৫. তদন্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সকল প্রশাসনিক ও আর্থিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা।

৬. রিজেন্ট বোর্ডে প্রবেশ এবং তদন্তে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনিক ব্যাখ্যা প্রদান।

৭. ঠিকাদারের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন স্বাধীনভাবে যাচাই।

৮. পরিবেশগত অনুমোদন ও পাহাড় কাটাসংক্রান্ত ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার দায় নির্ধারণ।

৯. পূর্ববর্তী নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে বর্তমান প্রশাসনের পক্ষ থেকে নথিভিত্তিক পুনঃব্যাখ্যা।

শিক্ষার্থীরা বলেন, তাদের আন্দোলন কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ বা প্রতিহিংসার অংশ নয়; বরং বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, সুশাসন ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার দাবি থেকেই এ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

তারা আরও ঘোষণা করেন, আজ বিকাল ৪টার মধ্যে প্রকল্প পরিচালক আবদুল গফুর পদত্যাগ না করলে বিকাল ৪টা ০১ মিনিট থেকে পূর্বঘোষিত অনশন কর্মসূচি শুরু করা হবে। কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালনার কথা জানিয়ে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দ্রুত, দৃশ্যমান ও ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্তের আহ্বান জানান।

কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ স্লোগান দেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে সত্য, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির পক্ষে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিকদের একাত্ম হওয়ার আহ্বান জানান।

“ব্যক্তির চেয়ে প্রতিষ্ঠান বড়, পদ-পদবির চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থ বড়।”

“দুর্নীতি