কেরানীগঞ্জে কেরোসিন ঢেলে স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
- আপডেট সময়ঃ ০২:৪০:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৩৯ বার পড়া হয়েছে
আদালত প্রতিবেদক: যৌতুকের দাবিতে ঢাকার কেরানীগঞ্জে স্ত্রী শারমিনকে কেরোসিন ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার দায়ে স্বামী দুলাল হোসেন ওরফে দুলু ওরফে জুয়েলকে মৃত্যু দণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডের পাশাপাশি আসামিকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. এরশাদ আলম (জর্জ) সাজার তথ্য নিশ্চিত করেন।
মামলার রায়ের আদেশ অনুযায়ী, দণ্ডিত দুলাল হোসেনের মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার জন্য জেল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সাজা পরোয়ানামূলে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
এছাড়া একই মামলায় আসামি হারুন (৪৫), মোরশেনা (৪০), সুমাইয়া (২২), রাজুর (২৫) বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় বেকসুর খালাস দিয়েছে আদালত। মামলার আরেক আসামি জরিনা বিচার চলাকালে মারা যাওয়ায় তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী শারমিনের সঙ্গে দুলাল হোসেনের প্রায় ১৫ বছর আগে ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী বিয়ে হয়। তাদের সংসারে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়ের পর থেকে দুলালসহ অন্য আসামিরা দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে শারমিনকে মারধর করতেন। ২০১৬ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে যৌতুকের দাবিতে শারমিনকে মারধর করা হয়। পরে ওই দিন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কেরানীগঞ্জে দুলালের বসতঘরের ভেতর তার শরীরে কেরোসিন ঢেলে ম্যাচের কাঠি দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে আগুন নেভান। গুরুতর অবস্থায় শারমিনকে প্রথমে ঢাকা মিটফোর্ড হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। তার শরীরের প্রায় ৮৫ শতাংশ পুড়ে যায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০১৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় শারমিনের মা মোসা. মোমেলা কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেন।
মামলার তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ৩১ জানুয়ারি ছয় আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। মামলার বিচার চলাকালে ট্রাইব্যুনাল ৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহন করেন আদালত।























