ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ই-পেপার

নগদ-সংশ্লিষ্ট ৭৮৬ কোটি টাকার শেয়ার অবরুদ্ধের আদেশ আদালতের

দৈনিক আইন বার্তা
  • আপডেট সময়ঃ ০৪:৫৬:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৮৫ বার পড়া হয়েছে

থার্ড ওয়েভ টেকনোলজিস লিমিটেডের (পরিবর্তিত নাম নগদ লিমিটেড) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর আহমেদ মিশুকসহ অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা ৭৮৬ কোটি ৩৯ হাজার ২৮৪ টাকার শেয়ার ফ্রিজ (অবরুদ্ধ) করার আদেশ দিয়েছেন আদালত।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন।

দুদকের পক্ষে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক ও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান মিরাজ এই আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়, অননুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটরের মাধ্যমে সরকারি অর্থ বের করে নেওয়া, বৈধ চ্যানেলে বৈদেশিক মুদ্রা না এনে অনাবাসী বিনিয়োগকারীদের অনুকূলে শেয়ার হস্তান্তর, জিরো কুপন বন্ডের অর্থ দিয়ে বিদেশি ঋণ পরিশোধ, বিদেশে অর্থ পাচার এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তানভীর আহমেদ মিশুকসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলছে।

দুদকের অনুসন্ধানে প্রাথমিকভাবে দেখা যায়, ২০২১ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ‘নগদ’-এর মাধ্যমে বিতরণ করা সরকারি ভাতার অব্যবহৃত অর্থ সফটওয়্যার জালিয়াতির মাধ্যমে ২৪ হাজার ১৫৯টি ভুয়া উদ্যোক্তার ওয়ালেটে স্থানান্তর করা হয়। পরে তা ৬৪৮টি ভুয়া ডিএসও এবং ৩৪টি অননুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটরের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়া হয়।

দুদক বলেছে, এ প্রক্রিয়ায় প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৭০৬ কোটি ৩৮ লাখ ৫৪ হাজার ২২৯ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে। আত্মসাৎ করা অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে লেয়ারিংয়ের মাধ্যমে থার্ড ওয়েভ টেকনোলজিস লিমিটেডের ১৬ কোটি ৮৪ লাখ ৩৪ হাজার ১২৭টি শেয়ার কেনায় ব্যবহার করা হয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

দুদকের আবেদনে আরও বলা হয়, অভিযোগ সংশ্লিষ্টরা শেয়ারগুলো বিক্রি বা স্থানান্তরের চেষ্টা করছেন। এসব শেয়ার বিক্রি করে অর্থ বিদেশে পাচারের আশঙ্কা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিদেশি প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকরা শেয়ার কেনার জন্য বিদেশ থেকে বৈধভাবে অর্থ এনেছেন এমন তথ্যও অনুসন্ধানে পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় অনুসন্ধান শেষ হওয়ার আগে শেয়ারগুলো হস্তান্তর, স্থানান্তর বা বিক্রি হয়ে গেলে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং দুদক বিধিমালা অনুযায়ী শেয়ারগুলো অবরুদ্ধ করা একান্ত প্রয়োজন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

নগদ-সংশ্লিষ্ট ৭৮৬ কোটি টাকার শেয়ার অবরুদ্ধের আদেশ আদালতের

আপডেট সময়ঃ ০৪:৫৬:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

থার্ড ওয়েভ টেকনোলজিস লিমিটেডের (পরিবর্তিত নাম নগদ লিমিটেড) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর আহমেদ মিশুকসহ অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা ৭৮৬ কোটি ৩৯ হাজার ২৮৪ টাকার শেয়ার ফ্রিজ (অবরুদ্ধ) করার আদেশ দিয়েছেন আদালত।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন।

দুদকের পক্ষে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক ও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান মিরাজ এই আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়, অননুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটরের মাধ্যমে সরকারি অর্থ বের করে নেওয়া, বৈধ চ্যানেলে বৈদেশিক মুদ্রা না এনে অনাবাসী বিনিয়োগকারীদের অনুকূলে শেয়ার হস্তান্তর, জিরো কুপন বন্ডের অর্থ দিয়ে বিদেশি ঋণ পরিশোধ, বিদেশে অর্থ পাচার এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তানভীর আহমেদ মিশুকসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলছে।

দুদকের অনুসন্ধানে প্রাথমিকভাবে দেখা যায়, ২০২১ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ‘নগদ’-এর মাধ্যমে বিতরণ করা সরকারি ভাতার অব্যবহৃত অর্থ সফটওয়্যার জালিয়াতির মাধ্যমে ২৪ হাজার ১৫৯টি ভুয়া উদ্যোক্তার ওয়ালেটে স্থানান্তর করা হয়। পরে তা ৬৪৮টি ভুয়া ডিএসও এবং ৩৪টি অননুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটরের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়া হয়।

দুদক বলেছে, এ প্রক্রিয়ায় প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৭০৬ কোটি ৩৮ লাখ ৫৪ হাজার ২২৯ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে। আত্মসাৎ করা অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে লেয়ারিংয়ের মাধ্যমে থার্ড ওয়েভ টেকনোলজিস লিমিটেডের ১৬ কোটি ৮৪ লাখ ৩৪ হাজার ১২৭টি শেয়ার কেনায় ব্যবহার করা হয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

দুদকের আবেদনে আরও বলা হয়, অভিযোগ সংশ্লিষ্টরা শেয়ারগুলো বিক্রি বা স্থানান্তরের চেষ্টা করছেন। এসব শেয়ার বিক্রি করে অর্থ বিদেশে পাচারের আশঙ্কা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিদেশি প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকরা শেয়ার কেনার জন্য বিদেশ থেকে বৈধভাবে অর্থ এনেছেন এমন তথ্যও অনুসন্ধানে পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় অনুসন্ধান শেষ হওয়ার আগে শেয়ারগুলো হস্তান্তর, স্থানান্তর বা বিক্রি হয়ে গেলে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং দুদক বিধিমালা অনুযায়ী শেয়ারগুলো অবরুদ্ধ করা একান্ত প্রয়োজন।